ট্রেন্ডিং নিউজ

এবার লাইভ লোকেশন শেয়ারিং ফিচার নিয়ে এলো উবার!

পেপল এর দেশে না আসা নিয়ে স্যাটায়ার!

এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী বিক্রি হওয়া ২০ টি মোবাইল হ্যান্ডসেট!

আপনার ঘরের নতুন অতিথির আগমন বার্তা জানাবার কিছু অভিনব উপায়!

এ্যাপল ঘোষণা করলো আইফোন টেন! যাতে নেই কোন হোম বাটন!

শুক্রবার ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ইগোর খেলায় কি জিততেই হবে?

tumblr_n1abuzXLJL1r5yd9po1_1280

মেয়েটা অভিমান করে। ছেলেটাও। দুজন দুজনের উপর এক আকাশ অভিমান। কিন্তু কেউ-ই কারো মান ভাঙ্গায় না। দুজনই মনে মনে পণ করে, কেউই ইগোর খেলায় কারো কাছে হারবে না।

ছেলেটা ভাবে মেয়েটা এত এরোগেন্ট কেন? একটুও কথা শুনতে চায় না। মেয়েটা ভাবে, সব ছেলেরাই এমন। ভীষন ইগো ম্যানিয়াক।

ছেলেটা চায়, মেয়েটা আগে কল দিক। দিয়ে সরি বলুক।
মেয়েটা চায়, সে মরে গেলেও কল দিয়ে সরি বলবে না। বলতে হলে ও বলুক।

রাত বাড়তে থাকে। ছেলেটা অস্থির হয়ে থাকে। মেয়েটাও। একসময় ছেলেটার অস্থিরতা ছটফটানি রূপ নেয়। আর মেয়েটা তার ফোনের জন্য অপেক্ষা করতে করতে কেদেঁ ফেলে। চোখের পানিতে বালিশ ভিজে যায়। বার বার মোবাইলের দিকে তাকায়। কিন্তু তবু সে কল দেয় না। তারপরদিনও না।

একসময় তার মোবাইলে কল আসে। ছেলেটা ফোন দিয়েছে!

মেয়েটার গলার কাছে বিশাল একটা কিসের দলা যেন আটকে থাকে। প্রচন্ড অভিমানে সে আরো হু হু করে কেদেঁ দেয়। কিন্তু কল রিসিভ করে না। গাধাটার একটা উচিত শিক্ষা হওয়া খুবই দরকার।

৩য় বারে ফোন ধরে। মেয়েটা চুপ করে থাকে। কারন সে যে কান্না কাটি করছিলো, মুখ খুল্লেই সেটা প্রকাশ পেয়ে যাবে। সে কিছুতেই ছেলেটাকে এটা বুঝতে দিতে চায় না।

”সরি। আমাকে মাফ করে দাও। আমি আর তোমাকে কষ্ট দিবো না। তুমি নিজেকে কষ্ট দিচ্ছ আর আমাকে ও”– ছেলেটা কাদঁকাদঁ হয়ে বলে, – ”আমি জানি তুমি ভালো নেই আমি ও খুব খারাপ আছি। প্লিজ ফিরে আসো। আমি তোমাকে আর কখখনো কষ্ট দিবো না
তোমাকে ছাড়া আমি কিচ্ছু না
আমার কোনো এক্সিসটেন্স নেই তোমাকে ছাড়া
অনেক তো হলো এবার ফিরে আসো প্লিজ!”

ছেলেটা একদমই ভেংগে পড়লো। প্রিয় মানুষটার কাছে নিজেকে না হারাবার যে পণ ছিলো, তা ডিমের খোসার মতো ভেঙ্গে গুড়িয়ে গেলো। সে স্বেচ্ছায় হেরে গেলো। মেয়েটাও আর পারলো না নিজেকে লুকিয়ে রাখতে। হু হু করে কেদেঁ দিলো। “শয়তান তোর দুইদিন লাগলো কেন এই কথাগুলো বলতে? তুই এত নিষ্ঠুর কেন? তোর আরো বড় একটা শিক্ষা দরকার!” – মেয়েটা রেগে গেলে তুই করে বলে ছেলেটাকে। একটু কেদেঁ শান্ত হয়ে বল্ল -”আমাদের একটা চুক্তি করা দরকার। এখন থেকে কেউ কারো উপর ৬ ঘন্টার উপর রাগ করে থাকা যাবে না।”

: বেশী হয়ে গেলো না?
: আচ্ছা, তাহলে ৩ ঘন্টা।
: আচ্ছা। আর যে আগে মান ভাঙ্গাবে, তার জন্য একটা পুরস্কার থাকা দরকার।
: কি পুরস্কার?
: (ছেলেটা ফিসফিস করে পুরস্কার বলে)
: সারা রাত চুমু? অসম্ভব!
: তাহলে এর চাইতেও বেশী কিছু?
: শয়তান! চুপ একদম!!

তারপর ওদের অনেক কথা হলো। অনেক খুনসুটি হলো। ছেলেটা কয়েকটা দুষ্টু কথা বল্ল। মেয়েটা অবাক হয়ে যায়! ছেলেরা এত্ত ভয়ংকর সব দুষ্টু কথা জানে। সামনে পেলে কিলিয়ে ভর্তা বানাবে ছেলেটাকে, এই বলে শাসালো।

ভোর রাতে ওরা ফোন রেখে ঘুমুতে যায়। মেয়েটা কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ে। কারন বেচারী কান্নাকাটি করে ভীষন ক্লান্ত হয়ে গেছিলো। ছেলেটা ফোন রাখার আগে মেয়েটার কপাল কল্পনা করে একটা আলতো চুমু দেয়। ছেলেটার হঠাৎ মনে হলো, চুমু দেয়ার জন্য কপালের চাইতে পবিত্র স্থান আর হয় না। কারন, কপালের চুমুতে কোন কাম থাকে না, কোন স্বার্থ থাকে না। থাকে শুধু নিখাদ ভালোবাসা।

মেয়েটা ঘুমের ভেতরও ছেলেটার চুমু টের পেলো। ভালোবাসার আদর অভিমানী মেয়েটা অনেক অনেক ভালো বুঝতে পারে। তাই ঘুমের ভেতরেই সে মুচকি হাসে।

ছেলেটা কথা বলতে বলতে ছাদে চলে গিয়েছিলো। ফোন রেখে সে কিছুক্ষন চুপচাপ বসে থাকে ছাদে। তাকিয়ে দেখে সূর্য উঠছে।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেও মুচকি হাসে। ভাবে, কিছু কিছু হেরে যাওয়াতে এত সুখ কেন?

Comments

মন্তব্য করুন

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্ট

%d bloggers like this: