ট্রেন্ডিং নিউজ

এ বছরের শেষের দিকে চালু হবে হাইপারলুপ!

বর্তমান পৃথিবীর সেরা ১০ ধনী ব্যক্তিত্ব! (২০১৮ ইং)

তরুনদের জন্য বাজারে এলো নতুনত্বে ভরপুর ফোরজি ’স্কিটো’ সিম!

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ইলন মাস্কের ৬ টি মূল মন্ত্র!

ফেসবুক মেসেনজার বট ও ন্যাচারাল ল্যাংগুয়েজ প্রসেসিং নিয়ে কিছু কথা

রবিবার ২০ মে, ২০১৮

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ইলন মাস্কের ৬ টি মূল মন্ত্র!

তাঁর পুরো নামঃ ইলন রিভ মাস্ক। তাঁকে বলা হয় সত্যিকারের আয়রন ম্যান। ২০১৮ সালে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমান ২১.৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার। যার কারণে তিনি আমেরিকার ২১ তম ধনী এবং বিশ্বের ৮০ তম ধনী ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। এক কথায় তাঁর পরিচয় দেয়া অসম্ভব। তিনি সাউথ আফ্রিকা, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র – এই তিন দেশের নাগরিক। তিনি অসামান্য সব প্রতিভার অধিকারী। তিনি একজন সফল বিনিয়োগকারী, প্রকৌশলী ও আবিষ্কারক, উদ্যোক্তা ও ভবিৎষত প্রবক্তা।

তিনি একাধারে মহাকাশ ভ্রমণ সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধান কার্য নির্বাহী এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার, বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা মোটরসের প্রধান কার্য নির্বাহী ও পণ্য প্রকৌশলী, সোলারসিটির চেয়ারম্যান. টানেলিং ভেনচার দ্য বোরিং কোম্পানির প্রধান কার্য নির্বাহী এবং বিশ্বখ্যাত পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল এর একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা, Zip2 এর কো-ফাউন্ডার । তিনি মানব কল্যানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অলাভজনক গবেষণাখাত ওপেনএআই এরও সহ প্রতিষ্ঠাতা। তিনি গোবাল ওয়ার্মিং সমস্যার সমাধানের জন্য Sustainable energy production & consumption নিয়ে কাজ করছেন, মানব জাতির বিলুপ্ত রোধে মাল্টি-প্ল্যানেটারী প্রজেক্টেও কাজ করছেন। এছাড়াও তিনি হাইপারলুপ নামক কল্পিত উচ্চ গতিসম্পন্ন পরিবহন ব্যবস্থার উদ্ভাবক, যেটাতে চৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করা হয়। এবং তিনি বিশ্বের ২য় বৃহৎ ফ্যাক্টরি “Gigafactory“ নির্মাণ করছেন।

সম্প্রতি তিনি টেসলার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একটি শিক্ষামূলক ইমেইল লিখেছেন। সেটি সারা পৃথিবীর মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে গেছে। কারণ সেখানে তিনি তাঁর অধস্তনদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও সময়ের অপচয় রোধ করার প্রয়াসে নির্দিষ্ট ৬টি কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। চলুন দেখা যাক সেগুলো কি?

১) বড় বড় মিটিং এড়িয়ে চলুনঃ মাস্কের প্রথম টিপস ছিলো এটি। তিনি বলেন, মাত্রাতিরিক্ত মিটিং করা একটা কোম্পানির বোঝা সরূপ। ঘন ঘন মিটিং করা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। বেশীরভাগ সময়েই দেখা যায়, বড় কোম্পানীগুলো বড় ধরনের মিটিংয়ে অনর্থক বাড়তি সময় ও অর্থ অপচয় করছে। এবং ধীরে ধীরে এতে খারাপ বৈ ভালো কিছু হয় না। দয়াকরে এই ধরনের মিটিংগুলো থেকে বেরিয়ে আসুন, যদি না আপনি এই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেন যে মিটিংগুলো থেকে উপস্থিত মানুষগুলো সত্যিকার অর্থেই লাভবান হচ্ছে। সেক্ষেত্রেও চেষ্টা করুন মিটিংগুলো সংক্ষিপ্ত করতে।

২) ঘন ঘন মিটিং এড়িয়ে চলুনঃ যদি আপনি অত্যন্ত জরুরী কোন কাজ না করেন থাকেন এবং মিটিং যদি আপনাকে কোন সাহায্য না করে, তবে সেগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন। সমস্যার সমাধান হয়ে যাবার পর ঘন ঘন মিটিংয়ের হারটি দ্রুত কমিয়ে আনা উচিত।

৩) যে মিটিংয়ে আপনার কোন ভুমিকা নেই, সেটি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসুনঃ যখনি আপনি উপলদ্ধি করবেন যে, মিটিংয়ে আপনি কোন ভূমিকা রাখছেন না, তৎক্ষনাৎ সেটা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের কাজে মনোযোগ দিন। এভাবে মিটিং থেকে বেরিয়ে আসাটা কিন্তু অভদ্রতা নয়, বরং কাউকে অযথা বসিয়ে রেখে তার মূল্যবান সময় নষ্ট করাটাই প্রকৃত অভদ্রতা।

৪) দুর্বোধ্য পরিভাষা পরিহার করুনঃ  টেসলাতে কাজ করতে হলে আপনাকে সমার্ধক ও অর্থহীন শব্দাবলী পরিহার করতে হবে। মোদ্দা কথা, যে শব্দ বল্লে আপনাকে আবার সেটার মানে ব্যাখা করে দিতে হয়, সে ধরনের শব্দ সাধারন যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যহত করে। তাই সহজ ও বহুল ব্যবহৃত শব্দ ব্যবহার করুন যেটা মানুষ দ্রুত বোঝে। আমাদের কোম্পানিতে এমন লোক দরকার নেই যাকে ডিকশনারী মাথায় নিয়ে কাজ করতে হয়।

৫) কোম্পানির নিয়ম যাই থাকুক না কেন, সরাসরি যোগাযোগ করুনঃ একটা কোম্পানির ‘চেইন অব কমান্ড’ যাই থাকুক না কেন, একটা কার্যকরী যোগাযোগ ব্যবস্থা হওয়া উচিত যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত। এটা করতে গিয়ে যদি কোম্পানির ‘চেইন অব কমান্ড’ আপনাকে ভাংগতে হয় তবে নিঃসংকোচে তা ভাঙ্গুন। যে ম্যানেজার উৎপাদনশীলতার চাইতে কোম্পানির ‘চেইন অব কমান্ড’ এর দিকে বেশী মনোযোগী থাকে, সেই ম্যানেজার তার চাকরী বেশীদিন ধরে রাখতে পারে না।

৬) নীতিমালা নয়, যুক্তি অনুসরণ করুনঃ  মোদ্দা কথা, সব সময় আপনার কমন সেন্স দ্বারা পরিচালিত হউন। একটা কোম্পানির নিয়ম কানুন সব সময় মানাটা কিছু ক্ষেত্রে খুব অবান্তর হয়ে দাঁড়ায়, এতটাই যে মনে হয় যে আস্ত একটা কার্টুনে রূপান্তরিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় কোম্পানির নিয়ম কানুনই বদলানো উচিত।

উপসংহারঃ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছর মাস্ক ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাঁর কোম্পানি টেসলা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৬ হাজার মডেল থ্রি গাড়ী উৎপাদন করবে। কিন্তু এই বছর দেখা গেছে, টেনে টুনে সংখ্যাটা মাত্র ২,২৫০ এ আনা গেছে। এদিকে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করতে গিয়ে মাস্ক তার দুইটি কারখানার কাজও বেশ কিছুদিন বন্ধ রেখেছিলেন, কিন্তু কাজের কাজ তেমন কিছুই হয়নি। অপরদিকে তার নতুন মডেলের গাড়ী মডেল থ্রি কেনার জন্য প্রতি সপ্তাহেই প্রি-অর্ডার বাড়ছে। কিন্তু সে অনুপাতে বাড়ছে না গাড়ীর উৎপাদন। তিনি তাঁর ক্রেতাকে দেয়া কথা রাখতে পারছেন না, ডেড লাইন মিস করছেন, এবং সর্বোপরী ক্ষুন্ন হচ্ছে তার কোম্পানির সুনাম। এইসব কারণে মাস্ক খুবই বিরক্ত হয়ে আছেন।

তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর কারখানার পুরো অটোমেশন লাইন আপকে বাতিল করেছেন, এমনকি কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন তার সরবরাহকারী ও কনট্রাকটরদেরকেও। মোট কথা তিনি টেসলার উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য রীতিমতো উঠে পড়ে লেগেছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতেই মাস্ক তাঁর কোম্পানীর সবাইকে গনহারে এই ইমেইলটি করেন। শুধু টেসলা নয় – বোদ্ধারা ধারনা করছেন, মাস্কের এই ৬টি টিপস যে কোন বড় কোম্পানিরই উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

তথ্যসূত্রঃ সিএনবিসি। ছবিঃ গুগল

 

 

Comments

মন্তব্য করুন

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্ট