ট্রেন্ডিং নিউজ

কিভাবে IELTS-এ ভালো ফলাফল করবেন?

ইংরেজীতে “তাই না?” ব্যবহার করার কিছু সহজ টিপস!

খেয়ে আসুন আদিবাসীদের সুস্বাদু খাবার ”মুন্ডি”

তবে কি জাপানিজরা শীঘ্রই বিলুপ্তির পথে?

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে যে কুড়িটি চাঞ্চল্যকর তথ্য অনেকেই জানেন না!

শনিবার ১৮ অগাস্ট, ২০১৮

এই বৃষ্টিতে ইলিশ-খিচুড়ি!

 

ভোর থেকেই আকাশ মেঘলা। বৃষ্টির বিরাম নেই। আকাশে যে ভীষন রকমের মেঘ দেখা গেছে সকালে, সে পরিস্কার হয়ে আগামীকালের আগে সূর্যের দেখা মিলবে কিনা সন্দেহ। আর এই পরিমান মেঘ দেখে সহজেই অনুমান করা যায় যে, আজ সারাদিনই বৃষ্টি হবে মুষলধারে!

বৃষ্টির দিনে ভূনা খিচুড়ি রান্না করা বাঙ্গালীর অনেক দিনের পুরনো অভ্যেস। সেই খিচুড়ীর সাথে সবচাইতে জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে ইলিশ মাছ। তবে অনেকেই ভূনা গরুর মাংসও রান্না করে সেই খিচুড়ীর সাথে খান। কিন্তু আজ আমরা দেখবো কি করে এই ভূনা খিচুড়ী আর ইলিশের কোরমা রান্না করা যায়।

খিচুড়ী রাধঁতে যা যা লাগবে – 

– চিকন চাল (৭৫০ গ্রাম)
– মুগ ডাল (২৫০ গ্রাম)
– মুশুর ডাল (২৫০ গ্রাম)
–  পেঁয়াজ কুঁচি (কয়েকটা)
– গুড়া লাল মরিচ (হাফ চা চামচ)
– গুড়া হলুদ (এক চা চামচের কিছু কম)
– এলাচি (কয়েকটা)
– দারুচিনি (কয়েক পিস)
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ (লম্বালম্বি ভাবে দু টুকরো করা)
– পরিমানমতো লবন
–  সয়াবিন তেল (এক কাপ)
– পানি (পরিমান মত)

যে ভাবে রাধঁবেনঃ

প্রথমে দু ধরনের ডাল একসাথে মিশিয়ে একটা কড়াইতে হালকা করে ভেজে ফেলুন। ঘ্রাণ বের হলে আর রং সামান্য বদলে গেলে কড়াই থেকে নামিয়ে ভাজা ডালগুলোর সাথে চালগুলো ভালো করে মিশিয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর পানি ঝরিয়ে মূল রান্না শুরু করে দিন।

প্রথমে কড়াইতে তেল গরম করে সেখানে পেয়াঁজ, মরিচ, লবন, গুড়া মসলা ও গরম মসলা দিন, (চাইলে ফ্লেভারের জন্য অল্প করে আদা-রসুন বাটাও দিতে পারেন এই পর্যায়ে)। কিছুক্ষন নেড়ে পেয়াঁজের রং বাদামী হয়ে আসলে সেখানে চাল-ডালের মিশ্রনটা যত্ন করে ঢেলে দিন এবং খুব ভালো পেয়াঁজ ও মসলার সাথে মিশিয়ে দিন। সময় নিয়ে করবেন, কোন তাড়াহুড়ো নয়।

চাল-ডাল-মসলা ভালো করে ভাজার পর পরিমানমতো পানি ঢালুন। নীচে ভালো করে নেড়ে দিবেন যাতে করে তলানীতে পোড়া না লেগে যায়। পানি চালের দেড় ইঞ্চি উপরে হতে হবে এবং এই সময়ে লবন চেক করে দেখুন। এবার ঢাকনা দিয়ে দিন, চুলার আগুন মাধ্যম আঁচে থাকবে। কিছুক্ষন পর যখন টগবগ করে ফুটতে থাকবে খিচুড়ির পানি, তখন খানিকটা নেড়ে দিবেন। এরপর পানি শুকিয়ে গেলে চাইলে কিছুক্ষন দমে রাখতে পারেন হাঁড়িকে।

যদি দেখেন চাল শক্ত আছে তবে পানির ছিটা দিয়ে আবারো ঢাকনা দিয়ে রাখুন কিছু সময়ে। আর যদি দেখেন নরম হয়ে যাচ্ছে, সাথে সাথে ঢাকনা খুলে ভাল করে নাড়িয়ে দিন, সম্ভব হলে চলন্ত ফ্যানের নীচে কিছুক্ষন রেখে দিন ঢাকনা খুলে।  এরপর প্লেটে করে পরিবেশন করুন লেবু-সালাদের সাথে। উপরে ছড়িয়ে দিতে পারেন ধনেপাতা কুচি এবং বেরেস্তা।

এবার চলুন ইলিশের কোরমা রান্না করা যাকঃ

উপকরণঃ

১ কেজি ওজনের একটা ইলিশ। (টুকরো করে কাটা)

২ টেবিল চামচ সরিষার তেল।

আধা চা চামচ হলুদ গুড়া।

২ টেবিল চামচ রসুন বাটা।

২ কাপ পানি

কাাচা মরিচ ৪/৫টা।

পরিমানমতো লবন।

যে ভাবে রাধঁবেনঃ

বড় একটা পাত্রে লবন ও হলুদ দিয়ে ইলিশের টুকরোগুলো খুব ধীরে ধীরে মাখিয়ে সরিষার তেলে অল্প আচেঁ ভাজুন। ভাজা শেষ হয়ে গেলে সেগুলো আলাদা একটা প্লেটে সরিয়ে রাখুন। এরপর সেই একই কড়াইয়ে পানি, গুড়া হলুদ, রসুন ও লবন একসাথে মিশিয়ে ভালো করে ফুটান। এরপর সেই আলাদা করে রাখা ইলিশগুলো খুব আলতো করে একটা একটা করে সেই ফুটন্ত পানিতে ছাড়তে থাকুন। উপরে কাঁচা মরিচের ফালিগুলো ছড়িয়ে দিন। ৫ মিনিট এভাবে রান্না করুন, মধ্যম আঁচে। ঢাকনাসহ। নামানোর আগে উপরে ধনেপাতা কুচি দিন।

এরপর খিচুড়ীর সাথে গরম গরম পরিবেশন করুন। সাথে থাকতে পারে বাতাবী লেবুর কয়েকটি টুকরো, কিংবা আমের আচার। বারান্দা দিয়ে বর্ষামুখর দুপুর দেখতে দেখতে আয়েশ করে খান ভূনা খিচুড়ী আর ইলিশ-কোরমা।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ নুসরাত আজিম সুবর্ণা।

Comments

মন্তব্য করুন

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্ট