ট্রেন্ডিং নিউজ

এবার লাইভ লোকেশন শেয়ারিং ফিচার নিয়ে এলো উবার!

পেপল এর দেশে না আসা নিয়ে স্যাটায়ার!

এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী বিক্রি হওয়া ২০ টি মোবাইল হ্যান্ডসেট!

আপনার ঘরের নতুন অতিথির আগমন বার্তা জানাবার কিছু অভিনব উপায়!

এ্যাপল ঘোষণা করলো আইফোন টেন! যাতে নেই কোন হোম বাটন!

শুক্রবার ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

কিভাবে ক্রিয়েটিভ হবেন?

দুনিয়ার সবাই তো ক্রিয়েটিভ নন। সবাই তো আর জন্মগতভাবে সৃজনশীল নয়, তাহলে সৃজনশীল মন কিভাবে নিজের ভেতর ডেভেলপ করবেন?

আপনি কি জানেন, ক্রিয়েটিভিটি ক্যান বি টট? সৃজনশীলতার শিক্ষা লাভ করা সম্ভব। যেভাবে করবেনঃ

১. কল্পনা করবেন। (আমি সেই সময়টাতে লিটারেলি সারাদিন সারা রাত কল্পনা করতাম, প্রচুর কল্পনা করতাম, প্রচুর। ঘন্টার পর ঘন্টা, রাতের পর রাত আমি কল্পনা করে করে কাটিয়েছি।) ক্রিয়েটিভিটিকে বাড়ানোর জন্য কল্পনাশক্তিকে বাড়াতে হবে মাষ্ট! এর কোন বিকল্প নাই। আইনষ্টাইন বলেছিলেন – ”বুদ্ধিমত্তার পরিচয় জ্ঞানে নয়, কল্পনাশক্তিতে। জ্ঞানের চেয়ে কল্পনা করার ক্ষমতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অনেক বেশী প্রয়োজনীয়।”

২. একই জিনিসকে এক দৃষ্টিতে না দেখে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টি (পয়েন্ট অব ভিউ) তে দেখার চেষ্টা করবেন। তারপর সে অনুযায়ী সাধ্যমত গবেষণা ও পরীক্ষা (রিসার্চ এন্ড এক্সপেরিমেন্ট) করার চেষ্টা করবেন।

 

৩. একই ফিল্ডের অন্যান্য বিখ্যাত মানুষজন কিভাবে সংশ্লিষ্ঠ কাজগুলো কম্পাইল করছে, সেগুলো স্টাডি করবেন। (যেমন ধরেন, যদি ফটোগ্রাফি হয়, তবে দেখবেন বিখ্যাত সব ফটোগ্রাফারদের কোম্পাজিশন পদ্ধতি, যদি রাইটিং হয় তবে দেখবেন বিখ্যাত সব রাইটারদের লেখার স্টাইল। যদি চিত্রকর হন, তবে বিখ্যাত সব চিত্রকরদের কাজ দেখবেন। এতে করে আপনি ইউনিকভাবে ইন্ডেপেন্ডলি চিন্তা করতে শিখবেন।)

৪. নিত্য নতুন বিষয়বস্তু ট্রাই করুন। হাইলি ক্রিয়েটিভ কিংবা জিনিয়াস লোকদের মধ্যে একটা কমন প্রবলেম হচ্ছে, এরা খুব দ্রুত বোর হয়ে পড়ে। অর্থাৎ তারা কোন কিছুর প্রতি যত দ্রুত আগ্রহী হয়, একটা সময় পরে ঠিক তত দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এই কারনে, ক্রিয়েটিভিটি লার্নিং প্রসেসে আপনার যখনই মনে হবে যে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রতি আপনার আগ্রহ ফুরিয়ে গেছে, তখন সেটার পেছনে অযথা সময় নষ্ট না করে ইণ্টারেষ্ট শিফট করে ফেলুন। মানে অন্য কোন বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ুন। (অবশ্য আপনি যদি একগুয়েঁ হন সেটা ভিন্ন কথা। ইতিহাস বলে, একগুয়েঁ লোকেরা সফলতার মুখ বেশী দেখেন।)

৫. পড়াশোনা। কল্পনাশক্তির মতো এইটারও কোন বিকল্প নেই। নিজের ভেতর পড়াশোনার (একাডেমিক পড়াশোনা নয়) অভ্যেস থাকলে আপনার ভেতর ক্রিয়েটিভিটি তৈরী হতে বাধ্য, তা সেটা যত অল্প পরিমানই হোক না কেন।

যা বলছিলাম, সে সময় আমি একাডেমিক পড়াশোনা, চাকুরী আর ব্লগিং – এই তিনটা জিনিস ছাড়াও কিছু ক্রিয়েটিভ আর প্রডাকটিভ কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতাম প্রতিনিয়ত। হিসাব কষতাম, খাতা কলম ছিলো আমার নিত্য দিনের সংগী। কখনো লিখতাম, কখনো আকঁতাম। গিটার আর পিয়ানো বাজাতাম, প্রচুর বই পড়তাম। রান্না-বান্না আর ফটোগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনা করতাম – নিত্য নতুন এক্সপেরিমেন্ট করতাম। মানুষজনের আচরন অবজার্ভ করতাম, হিউম্যান সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করতাম, সরাসরি হিউম্যান রিলেটেড বিষয়গুলো সব সময়েই আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো। নিজের ভুলগুলো খুজেঁ বের করে সেগুলো শুধরাবার চেষ্টা করতাম। (যেমনঃ ছোট বেলা থেকেই আমার জিহ্ববায় বেশ জড়তা ছিলো, প্রতিটা কথা রিপিট না করলে মানুষজন আমার কথা বুঝতে পারতো না। এটা থেকে বাচাঁর জন্য আবৃত্তি শিখেছি, পাবলিক স্পিচ দেয়ার বেসিক শিখেছি। কিশোর বয়সে প্যাকাটে ছিলাম, তাই একটা সময় বডি বিল্ডিংয়ে মনোযোগ দিয়েছিলাম।)

ক্রিয়েটিভিটির একটা দারুন সংজ্ঞাঃ

আবিস্কার করা।
পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা।
ঝুকিঁ নেয়া।
নিয়ম ভাঙ্গা।

ভুল করা এবং মজা করা।

৬. বাচ্চাদের আচরন লক্ষ্য করুনঃ অনেক সময় আপনার চারপাশের শিশুদের আচরন অবজার্ভ করেও চমকপ্রদ কিছু জিনিস শিখতে পারেন। কারণ বেশীরভাগ শিশুদের চিন্তা করার ধরন খুবই ইউনিক আর বুদ্ধিদীপ্ত হয়।

লেখাঃ প্রলয় হাসান।

ইলাসট্রেশান কৃতজ্ঞতাঃ 99u.com & লিভিংলোকেন 

 

Comments

মন্তব্য করুন

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্ট

%d bloggers like this: