ট্রেন্ডিং নিউজ

বৈদ্যুতিক গাড়ীর বহরে এবার কি তবে বাংলাদেশও নাম লেখালো?

কিভাবে IELTS-এ ভালো ফলাফল করবেন?

ইংরেজীতে “তাই না?” ব্যবহার করার কিছু সহজ টিপস!

খেয়ে আসুন আদিবাসীদের সুস্বাদু খাবার ”মুন্ডি”

তবে কি জাপানিজরা শীঘ্রই বিলুপ্তির পথে?

বৃহস্পতিবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮

খেয়ে আসুন আদিবাসীদের সুস্বাদু খাবার ”মুন্ডি”

মাস ছয়েক আগে আমাদের অফিসিয়াল ট্যুুরের শেষদিন রাঙ্গামাটি থেকে ফেরার পথে ঘটনাচক্রে এই খাবারটির সাথে পরিচিত হয়েছিলাম। গরম পানি দিয়ে নুডুলস রান্না করার মতো এই আদিবাসী খাবারটি খেতে বেশ মজা লেগেছিলো। এক বাটির দাম মাত্র ৩০ টাকা। এর নাম “মুন্ডি”। তবে শুঁটকি কিংবা ঝাল খেয়ে যাদের অভ্যেস নেই, তাদের এই খাবার চেখে দেখার দরকার নাই। আমি শুঁটকি এবং হালকা ঝাল খুবই পছন্দ করি।

এটা মায়ানমারের ঐতিহ্যবাহী ও সুপরিচিত খাবার। ঘরে ভাঙ্গানো চালের নুডলস সেদ্ধ করে তাতে নানারকম মসলা পরিমাণমতো মেশাতে হয়। মিয়ানমারে এই খাবার লোকজন সকালের নাশতা আর দুপুরের খাবার হিসেবে খায়। আদিবাসীদের কাছে এই খাবার খুবই জনপ্রিয়।

মুন্ডি’র উপকরণ ছিলোঃ

  • গরম পানি
  • টেষ্টিং সল্ট
  • চাল দিয়ে ঘরে বানানো চিকন নুডুলস
  • সয়া সস
  • পেঁয়াজ ভাজা
  • পাহড়ী মরিচের গুড়া
  • ঘরে বানানো ঝাল মসলা
  • এক প্রকার বুনো হার্বস আর
  • চিংড়ী শুটকির গুড়া মিশ্রন

 

শেষ দিন বিকেলে ক্যামেলা গলায় ঝুলিয়ে আর কাউবয় হ্যাট পড়ে শেষবারের মতো আদীবাসি খাবারের দোকানগুলোতে ঢুঁ মারা চেষ্টা করেছিলাম। সেদিন বিকেলেই খোয়ালাম আড়াইশ টাকা দিয়ে কেনা এক বস্তা তাজা মাশরূম। সিএনজির সিটের পেছনে রেখে স্থানীয় একটা সরকারী মাশরূম চাষ প্রকল্প পরিদর্শন করে ফিরে এসে দেখি আমার মাশরূমের ব্যাগটি সেখানে নেই! কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে! 

যা হোক, দুপুরের দিকে রাঙ্গামাটি সদরে একজন জানালেন, ‘মুন্ডি’ নামে মারমা আদিবাসীদের এক প্রকার খাবার পাওয়া যাবে পাশের একটি গ্রামে। (গ্রামের নাম ভুলে গেছি।) একটা সিনএনজি নিয়ে সেই গ্রামে রওনা হলাম। সিএনজিওয়ালা জানালো, ঐ গ্রামেই নাকি তার বাস। কিন্তু মুন্ডি বিক্রি হয় এমন কোন দোকানের নাম সে জানে না।

গ্রামে পৌঁছে স্থানীয় একটা মুদী দোকানে জিগেস করতেই লোকে মুন্ডির দোকান দেখিয়ে দিলো। দেখলাম একপাশে একটা নতুন গড়া টিনের ঘর। সামনের ছোট বারান্দায় কাঠের চেয়ার টেবিল পাতা। ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন আদিবাসী লুংগি পড়া ‘জিন ওয়ান’ নামের একজন চশমা পরিহিত ভদ্রলোক। তিনি আমাকে সাদর অভ্যর্থনা জানালেন।

তিনি জানালেন, তিনি আর তার স্ত্রী দুজন মিলেই এই মুন্ডি খাবারের দোকানটা গত কয়েক মাস ধরে চালাচ্ছেন। ট্যুরিষ্টরা আসলে তাদের এখান থেকেই মুন্ডি কিনেন। এতে তাদের বেশ চলে যায়। আমার সামনেই তারা মুন্ডি রাধঁলেন। তারপর গরম গরম বাটিতে পরিবেশন করলেন। শীতকালে খাবার জন্য খুবই উপাদেয় একটা খাবার এটি। অনেক স্যুপের মতো। আমি তাদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে কয়েকটা ছবি তুলে টিপসসহ খাবারের বিল ৫০ টাকা শোধ করে বিদায় নিলাম।

বলে না দিলে নতুন কোন টুরিষ্ট এদের খোজঁ পাবেন না। তবে রাঙ্গামাটি নেমে যে কোন সিএনজিওয়ালাকে জিগেস করলেই হবে, মুন্ডি বিক্রি করে যে গ্রামে, সেই গ্রামে তারা যেতে ইচ্ছুক, তাহলে সেই সিএনজিওয়ালাই নিয়ে যাবে। ভাড়া নিবে যেতে এবং আসতে ১০০ টাকা।

মুন্ডি নিয়ে আরো বিশদ তথ্য জানতে ক্লিক করুন এই লিংকে।
লেখাঃ প্রলয় হাসান

Comments

মন্তব্য করুন

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্ট