ট্রেন্ডিং নিউজ

এবার লাইভ লোকেশন শেয়ারিং ফিচার নিয়ে এলো উবার!

পেপল এর দেশে না আসা নিয়ে স্যাটায়ার!

এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী বিক্রি হওয়া ২০ টি মোবাইল হ্যান্ডসেট!

আপনার ঘরের নতুন অতিথির আগমন বার্তা জানাবার কিছু অভিনব উপায়!

এ্যাপল ঘোষণা করলো আইফোন টেন! যাতে নেই কোন হোম বাটন!

শুক্রবার ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে ড্রপবক্স সিইও’র আড়াই মিনিট দেরীতে উপস্থিতি এবং তাঁর আত্মপলব্ধি

ড্রপবক্সকে বলা হয় পৃথিবীর সেরা এবং সবচাইতে দামী স্টার্টাপগুলোর একটি। এর বর্তমান বাজারদর ১০ বিলিয়ন ইউএস ডলারেরও বেশী। (বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা!)। বর্তমানে এর রেজিঃ ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৫৭ কোটি সারাবিশ্বে।
 
ড্রপবক্স গঠন করা হয় ২০০৭ সালের জুন মাসে। এই দশ বছরে এটা হয়ে গেছে পৃথিবীর নম্বর ওয়ান ক্লাউড স্টোরেজ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবসাকে বলা হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের নাম্বার ওয়ান প্রযুক্তি-ব্যবসা।

ক্লাউড স্টোরেজ কি জিনিস, সেটা হয়তো এখনো অনেকেই জানেন না। ড্রপবক্স কি ধরনের সেবা দিয়ে এত বিখ্যাত হলো আর এত টাকা কামাতে পারছে, সেটা জানতে হলে ক্লাউড স্টোরেজ কি জিনিস সেটা জানতে হবে। ড্রপবক্সের শুরুর দিককার একটা গল্প বল্লেই ক্লাউড স্টোরেজের বিষয়টা হয়তো পরিস্কার হবে।
 
২০০৬ সালে এর প্রতিষ্ঠাতা ড্রিউ হষ্টন নামের একজন তরুন MIT তে পড়তো। তো সে প্রায়ই পেন ড্রাইভ সাথে নিতে ভুলে যেতো। প্রিন্ট করতে গেছে, পকেট হাত দিয়ে দেখে পেন ড্রাইভ ভুলে আনে নাই। প্রেজেনটেশান দিতে গেছে, পকেট হাত দিয়ে দেখে পেন ড্রাইভ নাই। বন্ধুকে জরুরী ফাইল পাঠাতে হবে, পকেট হাত দিয়ে দেখে সবকিছু আছে, শুধু পেন ড্রাইভটাই সেখানে নাই। তো তাকে আবার তার হোষ্টেলের রূমে ফিরে পেন ড্রাইভ এনে আবার কাজ করতে হতো। বলা বাহুল্য, এতে তার সময়, এনার্জি আর কাজ করার মুড – তিনটাই নষ্ট হয়ে যেতো। শেষে বাধ্য হয়ে সে একটা বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান খুজেঁ বের করলো।
 
সে যখন বিরক্ত হয়ে তার বন্ধুদের সাথে এই সমস্যাটা নিয়ে আলোচনা শুরু করলো, তখন সে খেয়াল করলো যে এইটা শুধু তার একার সমস্যা না, এই সমস্যা তার ক্যাম্পাসেরই হাজার হাজার শিক্ষার্থির হয়। তারা সবাই দরকারের সময় পেন ড্রাইভ আনতে ভুলে যায়। হস্টন তখন সিরিয়াসলি ভাবা শুরু করলো, এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় কি?

২০০৯ সালে ছোট্ট একটা এপার্টমেন্টে ড্রপবক্সের পুরনো অফিস

 
সে যেহেতু কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র, কম্পিউটার সায়েন্স দিয়েই এর দারুন একটা সমাধান সে খুজেঁ বের করলো। ইন্টারনেটের একটা জাগায় ফাইলটা আপলোড করে রাখলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। তারপর সেই ফাইলটা মোবাইলে এবং পিসিতে সিংক্রোনাইজ হয়ে থাকবে। তাহলে আর ডাউনলোডের ঝামেলাও থাকলো না, যখন দরকার হবে, তখনি পাওয়া যাবে। কারণ ফাইলটা আগে থেকেই ওখানে ডাউনলোড করা থাকবে।
 
প্রথমে সমাধানটা ছিলো শুধু নিজের জন্য। আস্তে আস্তে হষ্টন আস্ত একটা স্টার্টাপই খুলে বসলো। ড্রপবক্সের সাথে বাকী ক্লাউড সেবাদাতাদের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো, এর আপলোড স্পিড অন্য যে কারো থেকে অনেক বেশী। অনেক বিশাল ফাইলও চোখের পলকে ড্রপবক্স তার ইউজারের একাউন্টে আপলোড করে দেয়।

২০১২ সালে সানফ্রান্সিসকোতে ড্রপবক্সের বর্তমান অফিস।

ড্রপবক্স তার ব্যবহারকারীদের শুরুতে বিনামূল্যে ২ জিবি জায়গা প্রদান করে। এরপর বাকীটা পয়সা দিয়ে কিনতে হয়। ড্রপবক্স থেকে কোন ফাইল মুছলেও সেটা তার নিজস্ব রিসাইকেল বিন থেকে উদ্ধার করা যায়। দূর থেকে বসে কোন তথ্য মুছে ফেলা যায়, ভার্সন হিষ্টরী দেখা যায়, সরাসরি যে কোন ফাইল খুলে সেটা সম্পাদনা করা যায়সহ আরো অনেক ফিচার রয়েছে এর।
 
হষ্টন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ড্রপবক্সের শুরুর দিকে আমি একটি ভিডিও বানিয়েছিলাম উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করার জন্য। কিন্তু সেই ভিডিও দেখে আমারই MIT এর একজন সহপাঠি ইরানিয়ান-আমেরিকান ’আরাশ ফেরদৌসি’। আরাশ ভিডিও দেখামাত্র এতটাই ইমপ্রেসড হয়ে পড়ে যে আমাকে বিজনেস পার্টনার হবার অফার দেয়। আমিও তা লুফে নেই, কারণ আমার তখন টাকার দরকার ছিলো ড্রপবক্সকে দাড়ঁ করাতে। পরবর্তীতে সিড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে আমরা দুজন মিলে ড্রপবক্সকে দাড়ঁ করাই। আসলে এই আইডিয়াটা ব্যাখা করা যতটা সহজ ছিলো, সেটাকে কাজে পরিণত করাটা তার চাইতেও অনেক বেশী কঠিন ছিলো।”

টেকক্রাঞ্চ এওয়ার্ড সিরিমনিতে বক্তব্য দিচ্ছে সিইও ড্রিউ হিষ্টন

কিছুদিন আগে ড্রিউ হষ্টন নিজের একটা চমৎকার উপলদ্ধির কথা মিডিয়াতে শেয়ার করেন। ড্রপবক্স চালু করার কয়েক বছর পরের ঘটনা। তিনি খুবই বিরক্তির সাথে লক্ষ্য করলেন যে, তার অফিসের প্রায় সবাই-ই দেরী করে অফিসে আসে। সে পুরো কোম্পানির সবাইকে পরদিন সকালে মিটিংয়ে ডাকলেন এই বিষয়টা নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করার জন্য।
 
তো পরের দিন তিনি নিজেই ট্রাফিক জ্যামে পড়ে আড়াই মিনিট দেরী করে মিটিংয়ে উপস্থিত হলেন। তো মিটিংয়ের পর তার টিমের একজন সদস্য তাকে একপাশে টেনে নিয়ে বল্লেনঃ
আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, তুমি নিজেই আজ দেরী করলে!!
– আরে মাত্র তো আড়াই মিনিটের মামলা! এত বড় করে দেখার কি হলো?
 
পরে বুঝলাম, আমার আড়াই মিনিটের কারণে সে আসলে মনক্ষুন্ন ছিলো না, সে আসলে বলতে চেয়েছিলো – আমি একজন ভন্ড। অফিসের নিয়ম-কানুন আমার উপর প্রযোজ্য নয়, আমি আমার টিমকে শ্রদ্ধা করি না। সে এমনটাই ভাবছিলো। ট্রাফিক জ্যামে আড়াই মিনিট আটকে থাকার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।
 
আমরা অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলতে পারি, আমাদের ভ্যালু আর কালচার নিয়ে। কিন্তু দিনশেষে মানুষ সেটার উপরই শতগুন বেশী মনোযোগ দেয়, একজন লিডার হিসেবে আপনি যা করবেন।
 
দেখুন, মানুষ স্বভাবতইঃ ভালো করে তার কাজটুকু করতে চায়। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের দরকার জাষ্ট এমন একজন মানুষ যে তাকে হাতে কলমে দেখিয়ে দেবে সেটা। সত্যিকার সন্মান তো কখনো দেয়া হয় না, এটা অর্জন করে নিতে হয়।
 
ধরুন কেউ একজন আপনাকে রাস্তায় জিগেস করলো, ’ভাই অমুন জায়গাটা কোন দিকে?’ আপনি তাকে অনেকক্ষন ধরে বোঝালেন কিভাবে কিভাবে যেতে হবে সেখানে। সে বুঝলো না। তারপর আপনি তাকে নিজের হাতে একটা ম্যাপও একেঁ দিলেন।
 
কিন্তু আপনি তো তাকে এটাও বলতে পারতেনঃ
 
”ঐ জায়গাটা আমার বাসা থেকে খুব বেশী দূরে নয়। আপনি আমাকে স্রেফ অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে ওখানে পৌছেঁ দিচ্ছি।”
 
এবার আপনি নিজেই বলুন, কোন পদ্ধতিটি সবচাইতে কার্যকর হবে?
 
কোম্পানি ভ্যালু আর কালচার সবই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, যদি না লিডাররা নিজেরা মুখে যা বলে তা নিজেরা না মেনে চলে। আপনি যদি সত্যিই আপনার কর্মীদেরকে উদ্ধুদ্ধ করতে চান, তবে তাদেরকে কি করা উচিত সে সব নিয়ে জ্ঞানদান করা বন্ধ করুন, তার বদলে তাদেরকে দেখিয়ে দিন যে তাদের কোথায় যাওয়া দরকার। আমি বাজি ধরে বলতে পারি, তারা আপনাকে অনুসরণ করতে আগ্রহী হবে।
 
ইন্ক ডট কম অবলম্বনে
 

Comments

মন্তব্য করুন

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্ট

%d bloggers like this: