ট্রেন্ডিং নিউজ

বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলে সোফিয়ার সাক্ষাৎকারঃ এ ব্যর্থতার দায়ভার কার?

এবার লাইভ লোকেশন শেয়ারিং ফিচার নিয়ে এলো উবার!

পেপল এর দেশে না আসা নিয়ে স্যাটায়ার!

এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী বিক্রি হওয়া ২০ টি মোবাইল হ্যান্ডসেট!

আপনার ঘরের নতুন অতিথির আগমন বার্তা জানাবার কিছু অভিনব উপায়!

মঙ্গলবার ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭

নুহাশ হুমায়ূনের ‘হোটেল আলব্রাট্রস’ দেখার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

গতকাল রাতে হুমায়ূনপুত্রের বানানো নুহাশ হুমায়ুনের বানানো ‘হোটেল আলব্রাট্রোস‘ নাটকটির প্রচার সম্পন্ন হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এই নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। আর হবে নাই বা কেন?

নাটকটি এক কথায় অভূতপূর্ব! সমসাময়িক, আধুনিক এবং জেনিরিক, চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফি। লো বাজেট এবং লো ডিউরেশান স্ক্রিপ্টে অনবদ্য হয়েছে। তবে নাটকের প্রথম দিকের কিছু সংলাপ বাহুল্য মনে হয়েছে। বিব্রত লেগেছে কিছু সংলাপের স্ল্যাং শুনে। সম্পাদনার সময় সেগুলো উহ্য রাখা হয়নি।

নাটকের সিংহভাগের শুটিং ঢাকার একটা পাচঁতারা হোটেলের রান্নাঘরে সম্পন্ন হয়েছে। নাটকের পাত্রপাত্রি সবাই হোটেলের শেইফ, কুক, বেয়ারা, আর ম্যানেজার। একজন অতিথীনিও সংক্ষিপ্তাকারে ছিলেন। প্রতিদিনকার মতই সবাই রান্নাবান্না করছিলো, হঠাৎ এক রাতে কিছু অনাকাঙ্খিত আগন্তুক হোটেল দখল করে বসে! সেই নিয়েই কাহিনী।
আমাদের সংস্কৃতি মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর সাহেব দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। উনি যে প্রধান চরিত্র, তাঁকে সেভাবেই মেইনটেইন করা হয়েছে। (টক শোতে নুহাশ তাঁকে আংকেলের বদলে ’ভাই’ সম্বোধন করেছে, আইমিন তিনি আপনার বাবার ভাই ছিলেন, আপনারও ভাই! :P) তবে নাটকে বাড়তি রহস্য আরোপ করার চেষ্টাটা ভালো লাগেনি।

সব মিলিয়ে প্রথম কাজ হিসেবে নুহাশ ব্যক্তিগতভাবে অনেক দর্শককে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এত অল্প বয়সে তাঁর পিতা নাটক বানাতে পারেনি, সে বানিয়ে ফেলেছে, এবং মুটামুটি ভালোভাবেই বানাতে পেরেছে, এটা খুবই আশার কথা। আরেকটা বিষয় হলো, নাটকটা দেখে অনেকেই তার চিন্তার প্যাটার্নটা ধরতে পেরেছেন। এবং অবাক হয়ে খেয়াল করেছেন যে, সে তার পিতার চিন্তাধারা দিয়ে প্রভাবিত নয়, তার নিজস্ব একটা স্বকীয় চিন্তাধারা আছে যেটার সাথে হুমায়ূন আহমেদের কোন মিল নেই। ব্রাভো, নুহাশ!

আমরা দেখেছি যে, বাপ যতটা ক্রিয়েটিভ, বাপের পরবর্তী প্রজন্ম ততটা ক্রিয়েটিভ হয় না। (যেমনঃ সত্যজিৎপুত্র সন্দীপ রায়, তিনি বেশ কয়েকটা মুভি বানিয়েছেন বটে কিন্তু বাবার লিগেসি তেমন ধরে রাখতে পারেন নাই। যে সব মুভিই বানিয়েছেন, দুয়েকটা বাদে তার প্রায় সবগুলোই আবার তাঁর বাবার স্ক্রিপ্টে!)

কিন্তু নুহাশকে আমি যতটুকু চিনি, সে হাইলি ক্রিয়েটিভ। তার আকাঁর হাত দুর্দান্ত! আর লেখালেখি সে না করে থাকতে পারবে না, কারণ এটা শুধু তাঁর বাবার গুন না, তার বংশের গুন। তার বংশের সবাই লেখালেখি করেন। সুতরাং সেও করবে এটা জানা কথাই। এবং আমি নিশ্চিত যে, ”বাপের লিগেসি টেনে নিয়ে যাইতে হবে”, এইরকম মনোভাব নিয়ে সে কাজে নামে নাই, সে নিজের যোগ্যতা আর তাগিদেই নেমেছে। তার আগের বানানো একাধিক শর্ট ফিল্মেও সেরকমটাই দেখেছি।

আমি বিশ্বাস করি, তার এই প্রতিভাকে নার্চার করলে সে আরো অনেক দূর যেতে পারবে। না করলে এখানেই মুখ থুবড়ে পড়বে। আর সেটা নির্ভর করছে পুরোটাই নুহাশের আগ্রহের উপর। সে ইনট্রোভার্ট ছেলে, সে নিজ থেকে না চাইলে দুনিয়ার কেউ তাকে দিয়ে জোর করে এইসব করাতে পারবে না।

নাটকটা দেখার পর ভাবছিলাম, আজ যদি হুমায়ূন আহমেদ বেচেঁ থাকতেন, তিনি কতটা খুশী হতেন? আমার ধারনা, উনি বাচ্চাদের মতো খুশী হতেন, সবাইকে ফোন করে করে মনে করিয়ে দিতেন – ”অমুক চ্যানেলে কিন্তু আমার ছেলের নাটক হবে, দেখতে ভুল কইরো না কিন্তু।” সে তারঁ প্রথম পুত্রকে অত্যধিক স্নেহ করতেন, কিন্তু প্রচন্ড আবেগ নিয়ে নিজের পুত্রের বানানো নাটক দেখলেও আমি মুটামুটি নিশ্চিত যে পরদিনই তিনি পত্রিকায় কলাম লিখতেন, নুহাশ এই নাটকে কি কি ভুল করেছে কিংবা কি করলে আরো ভালো করা যেতো – সেই সব নিয়ে।

আগুনের পরশমনি, দুই ‍দুয়ারি, শঙ্খনীল কারাগার (স্ক্রিনপ্লে) আজ রবিবার, কোথাও কেউ নেই – এর মতো মাষ্টারপিসগুলো নুহাশের পিতা সৃষ্টি করে গেছেন এই দেশের বিনোদন জগতে। আমরা আশা করবো সেইরকম না হলেও তার কাছাকাছি আরো সৃষ্টি তারঁ পুত্র নুহাশ আমাদের দিতে পারবে। এবং এই কাজে সে তার পিতার চাইতেও দক্ষ হবার কথা, কারণ তার পিতা ছোটবেলায় একজন সফল পরিচালক বাবার সান্নিধ্য পাননি। নুহাশ পেয়েছিলো।

তবে আমাদের আশা সে রাখতে পারবে কিনা, সেটা বলে দেবার দায়িত্ব আপাততঃ না হয় সময়ের হাতেই ন্যস্ত থাকুক।

নাটকটি এখান থেকে দেখা যাবে।

 

Comments

মন্তব্য করুন

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্ট

%d bloggers like this: