ট্রেন্ডিং নিউজ

কিভাবে IELTS-এ ভালো ফলাফল করবেন?

ইংরেজীতে “তাই না?” ব্যবহার করার কিছু সহজ টিপস!

খেয়ে আসুন আদিবাসীদের সুস্বাদু খাবার ”মুন্ডি”

তবে কি জাপানিজরা শীঘ্রই বিলুপ্তির পথে?

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে যে কুড়িটি চাঞ্চল্যকর তথ্য অনেকেই জানেন না!

শনিবার ১৮ অগাস্ট, ২০১৮

ফেসবুকের চেহারা সনাক্তকরণ প্রযুক্তির পেছনের চমকপ্রদ গল্প!

ফেসবুক AI নিয়ে গবেষণা করছে বহুদিন হলো। অথচ মাত্র ৭ বছর আগেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়টা স্রেফ বই পুস্তকের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলো। কিন্তু গত ৭ বছর ধরে মাঠ পর্যায়ে বিশালাকার গবেষণা হচ্ছে এই বিষয়টি নিয়ে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢালছে গুগল, এ্যাপেল, উবার, বাইডু (চাইনিজ সার্চ ইঞ্জিন) আর ফেসবুকসহ বিশ্বের ডাকসাইটে সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের নামকরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ’মেশিন লার্নিং’ বিষয়টা নিয়ে পড়াচ্ছেন এমন সব প্রফেসরদের খুঁজে খুঁজে বের করে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রজেক্টে নিয়োজিত করছেন অবিশ্বাস্যরকম মোটা অংকের বেতনে।

ফেসবুকের “ফেসিয়াল প্যাটার্ন রিকগনিশন ইঞ্জিন ”হচ্ছে ফেসবুকের অন্যতম শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ফিচার। আপনি আপনার বন্ধুদের ছবি ফেবুতে আপলোড করার সাথে সাথেই অটোমেটিক্যালি আপনার বন্ধুদের আইডি যে ট্যাগ করা হয়ে যায়, এটা কাজটা সেই ফিচারই করে। (যদিও এই অটো ট্যাগিং ফিচারটি বন্ধ আছে কানাডা ও ইউরোপের দেশগুলোতে, তাদের প্রাইভেসি সচেতনতার কারণে।) এইটার এক্যুরেসি রেইট প্রায় ৯৭.২৭%। মানে প্রতি ১০০টা ট্যাগ থেকে মাত্র দুইটা ট্যাগ ভুল হয়। অলমোস্ট হিউম্যান ব্রেইনের কাছাকাছি (৯৭.৮৭%) !

ফেসবুক “DeepFace” নামে এই প্রজেক্টটি শুরু করেছিলো ২০১৪ সালে। এটি এতটাই জটিল আর ব্যয়বহুল গবেষণা ছিলো যে, ফেসবুকের মতো ডাকসাইটে কোম্পানিরও একে মোটামুটিভাবে ব্যবহারযোগ্য করতে কয়েক বছর লেগে গেছে। বছর দুয়েক আগে ফেসবুক শুধুমাত্র বন্ধুদের সাথে ছবি শেয়ার করার জন্য আস্ত একটা মোবাইল অ্যাপ বানিয়েছে তাদের এই গবেষণার উপর ভিত্তি করে, এর নাম মোমেন্টস।  বিস্তারিত এখানে।

এছাড়াও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফেসবুক অশ্লীল, সহিংস ও আপত্তিকর ছবির উপাদান (যেমনঃ মারামারি, খুন, জখম, সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ইত্যাদি ) ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলার কাজে ব্যবহার করছে।
ফেসবুকের এই চেহারা শনাক্তকরণ ফিচারটি এখন এতটাই শক্তিশালী যে, প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ছবির ভেতর থেকে আপনার চেহারা সম্বলিত ছবিটি খুঁজে বের করতে সময় নেবে মাত্র আড়াই সেকেন্ড। মানে ৮০ কোটি ছবির ভেতরকার সমস্ত প্যাটার্ন এনালাইসিস করতে ও সময় নেয় মাত্র আড়াই সেকেন্ড! কি অসম্ভব পরিমাণ পাওয়ারফুল চিন্তা করেন! এবং ফেসবুক এটাকে ১ সেকেন্ডের নীচে নামিয়ে আনার ট্রাই করছে!

ছবি থেকে চেহারা শনাক্ত করার বিষয়টা কিন্তু এত সহজ নয়। একটা ছবিতে লাইটিং, এপারচার, ফোকাস, এংগেল ইত্যাদি প্যারামিটার থাকে। এতগুলো প্যারামিটার যাচাই বাছাই করে সঠিক লোকের চেহারা শনাক্ত করা, তাও আবার এত অল্প সময়ের মধ্যে, বলা বাহুল্য কাজটা ভীষণ রকমের চ্যালেঞ্জিং। আপনার চিরচেনা বন্ধুই আপনাকে চিনতে পারবে না যদি অন্ধকারে ঘোলা একটা ছবিতে আপনি অন্য দিকে তাকিয়ে থাকেন, কিন্তু ফেসবুকের AI সেখান থেকেও ঠিকঠাকভাবে আপনাকে শনাক্ত করতে পারবে।
ফেসবুকের এআই দিনকে দিন আরো বেশী নিখুঁত আর দ্রুত গতিসম্পন্ন হচ্ছে। কিছুদিন পর আপনি ফেবুতে কোন টেক্সট লিখে দিলে সেইটা কোন ছবিতে থাকা রেজাল্টও শো করবে। মানে ধরেন, আপনি Me with Tree লিখে সার্চ দিলেন। আপনি এ যাবত গাছ পালার সাথে যতগুলো ছবি তুলে ফেবুতে পোষ্ট করেছেন, ও তার সব কয়টা সার্চ করে আপনার সামনে এনে হাজির করবে। (এটি ইতিমধ্যেই গুগল ব্যবহার করছে।)

ফেসবুকের এই নিউরাল নেটওয়ার্ক দিনকে দিন আরো শক্তিশালী হচ্ছে এবং সেই কাজটা আমরাই বিনামূল্যে করে দিতে ফেসবুককে হেল্প করছি। নিউরাল নেটওয়ার্ক হচ্ছে এমন এক জিনিস আপনি এটাকে যত বেশী ডেটা খাওয়াবেন, ও তত বেশী দক্ষ, নিখুঁত আর শক্তিশালী হবে।
ফেসবুকের গ্লোবাল সার্ভারে প্রতি মিনিটে প্রায় দেড় লাখ ছবি পোষ্ট হয় (ইনস্টাগ্রামের কথা তো বাদই দিলাম)। এই বিপুল পরিমাণ ছবির তথ্য ফেসবুক প্রতিদিন এনালাইসিস করে করে তার ডেটাবেইজের শক্তি বাড়াচ্ছে, তার নিউরাল নেটওয়ার্ক নিত্য নতুন জিনিসপাতির প্যাটার্ন নিজের মেমরীতে প্রতিনিয়ত যুক্ত করে যাচ্ছে। আর এর ফলেই সে এই মূহুর্তে পৃথিবীতে যতগুলো ফেসিয়াল রিকগনিশন নিউরাল নেটওয়ার্ক আছে, তার ভেতর সবচাইতে শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

উল্লেখ্য, ফেসবুক গত বছর থেকে ঢালাওভাবে পেইজগুলোতে চ্যাটবট ফিচার চালু করেছে, যেটা এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপরেই প্রতিষ্ঠিত। এছাড়াও NLP (প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ) নিয়ে গবেষণাও পুরোদমে চলছে এই প্রজেক্টেরই অধীনে। ফেসবুক ইতিমধ্যেই তিনটি আলাদা আলাদা দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
১) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই ল্যাব)।
২) ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (অকুলাস রিফ্ট)।
৩) পৃথিবীর অনুন্নত দেশগুলোকে ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনা (ইন্টারনেট ডট অর্গ)।

ধরুন, আপনি বাসে বসে আছেন, সামনের সিটে বসা একজন একটা সেলফি তুললো তার বন্ধুর সাথে, পেছনের সিটে বসা আপনিও সেই ছবিতে চলে এলেন। এরপর সে যখন তার ফেসবুকে ছবিটি আপলোড করবে, ফেসবুক আপনার চেহারা শনাক্ত করে আপনাকেও ট্যাগ করবে তাদের সাথে। তবে ভবিষ্যতে ফেসবুক আপনাকে সুযোগ দিবে পেছনে থেকে আপনার মুখটি ঘোলা করে দিতে বা মুছে ফেলতে।

চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তিটি এতটাই ক্ষমতাশালী যে, ভবিষ্যতে এটি ব্যবহার করে অনেক ধরনের অসাধ্য সাধন করা যাবে। যেমনঃ মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়বে, অপরাধ কমবে, রাস্তায় স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের সংখ্যা বাড়বে, এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার হবে। শুধুমাত্র চেহারা শনাক্ত করেই এই পৃথিবীর চেহারা আমূল বদলে ফেলা সম্ভব। তবে এতে করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অনেকাংশেই লংঘন হবে বলে প্রযুক্তিবিদরা মনে করছেন।
কিন্তু সমস্যা হলো, গত কিছুদিন ধরে আমার বিভিন্ন গ্রুপে আপলোডকৃত অনেক ছবিতে আমার চেহারার জাগায় আমার লিষ্টে থাকা একজন বন্ধুর আইডি ফেসবুক অটো ট্যাগ করে দেয়। আমাকে ম্যানুয়ালি সেটা ডিলিট করতে হয়। ফেসবুকের দাবী সত্য হলে, তার সাথে আমার চেহারার মিল ৯৮%। কিন্তু আমি তা একেবারেই মনে করি না। আমার ধারনা তার চেহারার সাথে আমার চেহারার ১৫% মিলও নাই। তারপরও ফেসবুক কেন আমার ছবির জাগায় তাকে ট্যাগ করে যাচ্ছে, এটা একটা রহস্য বটে! আমার মনে হয়, এই অটো ট্যাগিং ফিচারটা এখনো বেটা (টেষ্টিং) পর্যায়েই আছে, আরো অনেক কাজ করতে হবে এটাকে নিয়ে ফেসবুকের।
দেখি, তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে, তারও একই ধরনের সমস্যা হয় কিনা। কারণ হিসেব মতে তার ছবিতেও আমাকে ট্যাগ করার কথা!

ফেসবুকের মতই মাইক্রোসফটের চেহারা সনাক্তকরণ প্রযুক্তি রয়েছে, এর সাহায্যে ছবিতে থাকা ব্যাক্তির বয়স নিরূপণ করা যাবে। এটি এই লিংক থেকে ব্যবহার করা যাবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফেসবুক তার ব্যবহারকারীদের তথ্য আমেরিকার নির্বাচনে ব্যবহার করেছে বলে অত্যন্ত জোরালো অভিযোগ উঠেছে, এমনকি এই দায় নিয়ে মার্ক জাকারবার্গকে কংগ্রেসের মুখোমুখিও দাঁড়াতে হতে পারে খুব শীঘ্রই। যদিও মার্ক এই দায় চাপিয়েছে একটা থার্ড পার্টি অ্যাপের উপর।

Comments

মন্তব্য করুন

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্ট