ট্রেন্ডিং নিউজ

কিভাবে IELTS-এ ভালো ফলাফল করবেন?

ইংরেজীতে “তাই না?” ব্যবহার করার কিছু সহজ টিপস!

খেয়ে আসুন আদিবাসীদের সুস্বাদু খাবার ”মুন্ডি”

তবে কি জাপানিজরা শীঘ্রই বিলুপ্তির পথে?

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে যে কুড়িটি চাঞ্চল্যকর তথ্য অনেকেই জানেন না!

শনিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৮

বর্তমান পৃথিবীর সেরা ১০ ধনী ব্যক্তিত্ব! (২০১৮ ইং)

বিশ্বের সবচাইতে বড় ই-কমার্স এবং অন্যতম সেরা ক্লাউড কম্পিউটিং কোম্পানি এ্যামাজনের মালিক ’জেফ বাজোস’ এর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমান সম্প্রতি প্রায় ১৩৩ বিলিয়নে গিয়ে ঠেকেছে। এই মূর্হুতে তিনিই পৃথিবীর সবচাইতে ধনী মানুষ, এবং পৃথিবীতে এই পরিমান ব্যক্তিগত সম্পদ আর কেউ কখনো অর্জন করতে পারেন নি। এমনকি বিল গেটসও নন।
 
সম্প্রতী এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে পৃথিবীর মাত্র ১% লোক যে পরিমান সম্পদ অর্জন করেছেন, তা পৃথিবীর মোট ৪০০ কোটি মানুষের মোট অর্জিত সম্পদের চাইতেও বেশী। এবং এই অবস্থা যদি চলতে থাকে, তবে আগামী ২৫ বছরের ভেতর এই পৃথিবীর মানুষ একজন ট্রিলিয়নিয়ারকে দেখতে পাবেন। উল্লেখ্য, এক হাজার বিলিয়ন ডলারে এক ট্রিলিয়ন ডলার হয়।
 
এক হাজার মিলিয়ন ডলারে এক বিলিয়ন ডলার হয়। যাদের কমপক্ষে ১ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে, তাদেরকে বিলিওনিয়ার বলা হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় দেড় হাজার বিলিয়নিয়ার রয়েছেন। সবচেয়ে বেশী আছেন আমেরিকায়, তারপর রয়েছে চীন, ভারত, জার্মানি, রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য। বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিন মাস কয়েক আগে পৃৃথিবীর সেরা ১০ ধনীর একটা তালিকা প্রণয়ন করেছিলো। আমাদের আজকের প্রবন্ধটি সেই তালিকার উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে।

 ১০. মাইকেল ব্লুমবার্গঃ

মোট সম্পদের পরিমানঃ ৫০ বিলিয়ন ডলার।

পেশাঃ সিইও, জনসেবক ও রাজনীতিবিদ

শিল্পখাতঃ গনমাধ্যম

১৯৮১ সালে সে তাঁর কোম্পানি চালু করে যেটার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার। এই কোম্পানির ১০০ টির বেশী শাখা আছে বিশ্বজুড়ে। তিনি ২০০২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক শহরের মেয়র ছিলেন। আগ্নেয়ান্ত্র নিয়ন্ত্রন এবং পরিবেশ দূষণরোধে তিনি এ যাবত প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন বিভিন্ন অলাভজনক সেবাখাতে।

৯. ল্যারি পেইজঃ


মোট সম্পদের পরিমানঃ ৫২.২ বিলিয়ন ডলার।

পেশাঃ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, গুগলের সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

শিল্পখাতঃ সফটওয়্যার।

তিনি সেরা ধনীর কাতারে ৯ নম্বরে আছেন।

৮. ল্যারি ইলিসনঃ


মোট সম্পদের পরিমানঃ ৬০.৪ বিলিয়ন ডলার।

পেশাঃ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, ওরাকলের প্রাক্তন সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

শিল্পখাতঃ সফটওয়্যার।

তিনি মাত্র ২ হাজার ডলার নিয়ে তার বিশ্বখ্যাত সফটওয়্যার কোম্পানি ’ওরাকল’ শুরু করেছিলেন, যেটার ১২০০ ডলারই ছিলো তার নিজের পকেটের। তিনি ছিলেন আমেরিকার সবচাইতে বেশী বেতনভুক্ত কর্মকর্তা। তাঁর চাইতে বেশী বেতন আর কোন সিইওর ছিলো না। তিনি ২০১৪ সালে সিইও পদ থেকে অবসর নেন কিন্তু এখনো কোম্পানির মূল কার্যপরিষদে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। উল্লেখ্য, তিনি আমেরিকার গোয়েন্দা শাখার মূল ডাটাবেইজ তৈরী করতে সরকারকে সহায়তা দিয়েছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, তিনি একজন স্বশিক্ষিত প্রোগ্রামার। তিনিও প্রচুর টাক মানবকল্যানে বিলিয়েছেন যদিও সে বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্চে তার নিজস্ব আস্ত একটি দ্বীপ রয়েছে।

৭. কার্লস স্লিম হেলু এবং পরিবারঃ


মোট সম্পদের পরিমানঃ ৬৭.৬ বিলিয়ন ডলার।

পেশাঃ ব্যবসা।

শিল্পখাতঃ টেলিকমিউনিকেশন।

লাতিন আমেরিকার সবচাইতে বড় মোবাইল অপারেটিং কোম্পানির মালিক হচ্ছেন কার্লস হেলু। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন উন্নত দেশের আবসন, কনজিউমার পণ্য এবং খনিজ ও জ্বালানি ব্যবসার সাথেও সক্রিয়ভাবে জড়িত। বিশ্বখ্যাত নিউইয়র্ক টাইম পত্রিকারও মালিক সে। তিনি প্রায় ২০০ টা কোম্পানির মালিক। তিনি মেক্সিকোর সবচাইতে ধনী লোক।

৬. এমানসিও অরতেগাঃ

মোট সম্পদের পরিমানঃ ৭০ বিলিয়ন ডলার।

পেশাঃ সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

শিল্পখাতঃ খুচরা পণ্য।

তিনি একজন স্প্যানিশ বিলিওনিয়ার, যিনি তার ফ্যাশন গ্রুপ ‘ ইনডিটেক্স’ এর কারণে জনপ্রিয়, যেটার প্রায় ৭ হাজার আউটলেট আছে বিশ্বজুড়ে। তিনি ইউরোপের সবচাইতে ধনী লোক। ৮১ বছর বয়স্ক এই ভদ্রলোক হচ্ছেন খুচরা পণ্যখাতে পৃথিবীর সবচাইতে ধনী পুরুষ। তিনি বলেন, “গতি এবং গ্রাহক হচ্ছেন আমার ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল চাবি-কাঠি।”

৫. মার্ক জাকারবার্গঃ

মোট সম্পদের পরিমানঃ ৭২ বিলিয়ন ডলার।

পেশাঃ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, ফেসবুকের সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

শিল্পখাতঃ প্রযুক্তি।

মার্ককে নিয়ে বেশী কিছু বলার দরকার নেই, তাকে বাংলাদেশের তরুন প্রজন্মের সবাই চেনেন ফেসবুকের কল্যানে। তিনি ১৩ বছর আগে তার হোস্টেলের ঘরে বসে প্রথমবারের মতো ফেসবুক চালু করেন এবং বর্তমানে তিনি বিশ্বের প্রথম ৫ জন ধনীর একজনে পরিণত হন। কয়েক বছর আগে তিনি এবং তার চাইনিজ স্ত্রী প্রিসিলা চেন ঘোষণা দিয়েছেন যে, মৃত্যুর পূর্বে তারা তাদের সম্পদের ৯৯ ভাগই মানব কল্যাণে দান করে যাবেন।

৪. বার্নার্ড আরনল্টঃ

মোট সম্পদের পরিমানঃ ৭৩ বিলিয়ন ডলার।

পেশাঃ LVMH সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

শিল্পখাতঃ ফ্যাশন হাউস ও খুচরা পণ্য।

ফরাসী ধনী বার্নার্ড পৃথিবীর বিখ্যাত সব ফ্যাশন ব্রান্ডের মালিক। তিনি LVMH নামক একটি কোম্পানির চেয়ারম্যান ও সিইও, যা কিনা পৃথিবীর সবচাইতে বড় বিলাসবহুল খুচরা পণ্যের কোম্পানি। ৬৮ বছর বয়স্ক এই ধনী ব্যক্তি তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।

৩. ওয়ারেন বাফেটঃ

মোট সম্পদের পরিমানঃ ৮৪ বিলিয়ন ডলার।

পেশাঃ বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ি এবং বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে’র সিইও

শিল্পখাতঃ বিনিয়োগ এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা।

৮৬ বছর বয়স্ক এই বয়োবৃদ্ধ ভদ্রলোককে বলা হয় পৃথিবীর ইতিহাসের সবচাইতে সফল বিনিয়োগকারী। তিনি মাত্র ১১ বছর বয়সে প্রথম শেয়ারের মালিক হন এবং মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে তাঁর দেশের সরকারকে তিনি ইনকাম ট্যাক্স দেয়া শুরু করেন। এ যাবত তিনি প্রায় ৭০ টি কোম্পানির মালিক।

তিনি মুটামুটি একজন সেলিব্রেটি বিলিওনিয়ার। তাঁর বিভিন্ন বানী, বই, উক্তি, ভাষণ, তাঁর উপর বানানো ডকুমেন্টারি ইত্যাদি বিশ্বজুড়ে তরুন ও উদ্যোক্তা মহলে বেশ জনপ্রিয়। তিনি হিসেব করে খরচ করার জন্য সুপরিচিত। তিনি বলেন, “আমি গড়ে মাত্র চার ডলার খরচ করি আমার প্রতি সকালের নাস্তা বাবদ। এবং সেটা আমি ম্যাকডোনাল্ড থেকে কিনি।” উল্লেখ্য, মার্কের মতো তিনিও তাঁর মোট সম্পদের ৯৯ ভাগ অনুদান দিবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

২. বিল গেটসঃ

মোট সম্পদের পরিমানঃ ৯২.৩ বিলিয়ন ডলার।

পেশাঃ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, মাইক্রোসফটের প্রাক্তন সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

শিল্পখাতঃ সফটওয়্যার এবং প্রযুক্তি।

ছোট বেলার বন্ধুকে নিয়ে তিনি কলেজে পড়তেই মাইক্রোসফট গড়ে তোলেন, বাকীটা ইতিহাস। তিনি নিজে প্রথম কম্পিউটার ব্যবহার করার সুযোগ পান ১৯৬৭ সালে, প্রাইমারিতে পড়ার সময়। সে সময় সঙ্গত কারণেই কম্পিউটার ছিলো অত্যন্ত মূলব্যান ও দুর্লভ। তাই তাঁর স্বপ্ন ছিলো, তিনি কম্পিউটারকে পৃথিবীর কোনায় কোনায় যতটা সম্ভব ছড়িয়ে দিবেন। একবারে দরিদ্র কৃষক থেকে শুরু করে যেন অট্টালিকার ধনীও একটা কম্পিউটারকে ভালভাবে ব্যবহার করার সুযোগ পায়, তাঁর লক্ষ্য ছিলো সেটাই।

তিনি টানা ১৫ বছর পৃথিবীর সেরা ধনীর তালিকায় এক নম্বরে ছিলেন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী মিলে একটা অলাভজনক সেবা প্রতিষ্ঠান সংগঠন করেন “বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ নামে। এই সংগঠন ‍পৃথিবীর দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোতে রোগ, জরা ব্যধি, দূষন, এইডস , ম্যালেরিয়া ইত্যাদি নিয়ে গনসচেতনামূলক কাজ করে। এটি পৃথিবীর সবচাইতে বড় ”ব্যক্তিগত অনুদান” প্রতিষ্ঠান।

উল্লেখ, দ্য গিভিং প্লেইজ নামে একটা এলিট ক্লাব বিল গেটস প্রতিষ্ঠা করেন, যার সদস্য হচ্ছেন মার্ক ও বাফেটের মতো ডাকসাইটে বিলিওনিয়াররা। এই ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সেবাখাতে অনুদান দিয়ে মানসিক তৃপ্তি লাভ করা। তিনি প্রতি বছর তার প্রিয় বইয়ের একটা তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করেন।

১. জেফ বাজোসঃ


মোট সম্পদের পরিমানঃ ১৩২ বিলিয়ন ডলার।

পেশাঃ কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, অনলাইন রিটেইল জায়ান্ট এ্যামাজনের সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

শিল্পখাতঃ সফটওয়্যার এবং প্রযুক্তি।

৫৫ বছর বয়সী এই ভদ্রলোক ১৯৯৪ সালে মোটা অংকের বেতনের চাকুরী ছেড়ে দিয়ে নিজের বাসার গ্যারেজে বসে একটি অনলাইন শপ খুলেন তিনি। তার নাম দেন এ্যামাজন। এ্যামাজনের গহীন বন যেমন পৃথিবীর সবচাইতে বড় বন, তেমনি তাঁর অনলাইন শপ হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে বড় ইকমার্স শপ। এ্যামাজনে প্রায় ৩০ লাখ ধরনের পণ্য রয়েছে, যে কেউই এই পণ্যের জগতে হারিয়ে যাবে এমাজনের গহীন অরণ্যের মতোই। এর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার।

এছাড়াও তিনি Blue Origin নামক একটা রকেট কোম্পানির এবং ওয়াশিংটন পোষ্ট পত্রিকারও মালিক। কয়েকবছর আগে তিনি “হোল ফুডস” নামের একটা স্থানীয় চেইন শপও কিনে নেন। তিনি “বেজোস ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন” প্রতিষ্ঠা করেন যেটা তরুনদের শিক্ষা ও গবেষণার জন্য অনুদান দিয়ে থাকে। এটি তাঁর পিতা-মাতা চালান।

তথ্যসূত্রঃ ফোর্বস। ছবিঃ গুগল 

 

Comments

মন্তব্য করুন

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্ট