ট্রেন্ডিং নিউজ

কনটেন্ট রাইটারদের জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস

বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলে সোফিয়ার সাক্ষাৎকারঃ এ ব্যর্থতার দায়ভার কার?

এবার লাইভ লোকেশন শেয়ারিং ফিচার নিয়ে এলো উবার!

পেপল এর দেশে না আসা নিয়ে স্যাটায়ার!

এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী বিক্রি হওয়া ২০ টি মোবাইল হ্যান্ডসেট!

রবিবার ২১ জানুয়ারী, ২০১৮

বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলে সোফিয়ার সাক্ষাৎকারঃ এ ব্যর্থতার দায়ভার কার?

কিছুদিন আগে পৃথিবীর প্রথম সামাজিক রোবট সোফিয়াকে সরকারীভাবে এদেশে নিয়ে আসা হয়েছে। বাংলাদেশের বাৎসরিক প্রযুক্তি বিষয়ক বর্ণাঢ্য আয়োজন ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ইভেন্টে একে আনা হয়েছিলো। সোফিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন নতুন প্রজন্মের রোবট, সে খুব অল্প সময়েই মিডিয়া ও সোশ্যাল নেটওয়ার্ক হাইপ তৈরী করতে পেরেছে। এর নির্মাতা হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিকস। সোফিয়াকে জিগেস করা প্রশ্নগুলোকে সে অডিও টু টেক্সট প্রযুক্তির সাহায্যে কনভার্ট করে তার শরীরে থাকা ওয়াই ফাই সেন্সর দিয়ে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হয়ে ডেটা সার্চ করে গুগল টক দিয়ে সেটা স্পিচ আকারে বের করে তাকে জিগেস করা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকে।
সোফিয়ার রসবোধ অসাধারন। মঞ্চে সোফিয়া আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথাবার্তার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলেনঃ “আমাকে তুমি কিভাবে চেনো, সোফিয়া?” সোফিয়া একটা লম্বা বাক্যে উত্তর দিলো। সবশেষে বল্ল – “আমি এও জানি, আপনার নাতনীর নাম আর আমার নাম এক। আমরা একই নাম ধারন করি।” তখন প্রধানমন্ত্রী হেসে দর্শকদের দিকে তাকিয়ে বল্লেন – ”জয়ের মেয়ের নাম সোফিয়া।” 😀 তারপর সোফিয়া প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধন ঘোষনা করতে। সোফিয়ার এই কনভারসেশনটা ভালো লেগেছে। গতানুগতিক মনে হয়নি। তবে আমি শুরু থেকেই সোফিয়ার ভয়েস আর কথা বলার স্টাইলটা নিয়ে অস্বস্তিতে ছিলাম।

তো অনেকেই দেখলাম বাংলাদেশী বিভিন্ন চ্যানেলে সোফিয়ার সাক্ষাৎকার দেখে আশাহত হয়েছেন। সোফিয়ার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে হতাশা ও উস্মা প্রকাশ করেছেন। এবং কেন এত টাকা দিয়ে এই “নিম্নমানের” রোবট আনানো হলো, সেই ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছে। এই টাকা দিয়ে দেশের টেক স্টার্টাপগুলোকে ফান্ডিং দেয়া যেতো, সেটাও অনেকে মনে করছেন।

সোফিয়াকে এত টাকা খরচ করে আনানোর ব্যাপারে আমিও একমত নই, তবে সরকারী ফান্ডিং যে আমাদের জন্যও আছে, সেটাও পোস্টের নীচে বলেছি। দুটো পয়েন্টে কথা বলবো।
১. সোফিয়ার অসংখ্য ইন্টারভিউ ইউটিউবে রয়েছে। সে পৃথিবীর অনেক জাগায় অনেক ধরনের ইন্টারভিউ দিয়ে বাজিমাত করে বাংলাদেশে এসে বেচারী রীতিমতো বেকুববনে গিয়েছে। তাকে বেকুব বানানোর এই কৃতিত্ব অবশ্যই আমাদের দেশের হোষ্টদের। (হাত তালির ইমো হবে)
 
ইন্ডিপেন্ডেট টিভির যে হোস্ট সোফিয়ার ইন্টারভিউ নিয়েছে, তার নিজের ইংরেজী উচ্চরনই বড় ধরনের ভুলে ভরা ছিলো। কিছু কিছু উচ্চারণ তো রীতিমতো হাস্যকর ও বিরক্তিকর। (এমনকি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিমন্ত্রী পলকের উচ্চারণ এর চাইতে অনেক বেশী সঠিক ছিলো) সুতরাং, এই ইণ্টারভিউ দিয়ে সোফিয়াকে জাজ করাটা বোকামী হবে।
 
সোফিয়া কনভারসেশন বিল্ডাপ করতে পারে, কিন্তু সাংবাদিক রাম ছাগলটা যেহেতু বেশীরভাগ সময়েই নিজেও বুঝে নাই সোফিয়া কি উত্তর দিয়েছে, সেহেতু সে কোন কনভারসেশন বিল্ডাপ করতে পারে নাই, সে আগে থেকেই ঠিক করে রাখা কয়েকটা প্রশ্ন একের পর এক করে গেছে।
 
সোফিয়াকে ঠিকঠামতো প্রশ্ন করলে সেও ঠিকঠাক মতই রিপ্লাই দিতো। প্রমান এই লিংকে দেখুন। এই প্রশ্নকর্তাও বাংলাদেশী। তার প্রশ্ন করার ধরন আর ইন্ডিপেন্ডেটের সাংবাদিকের প্রশ্নের ধরন – দুটো মিলিয়ে দেখলেই বুঝবেন।
 
এক্সপ্রেশন দেখানো ছাড়াও আরেকটা বিষয় হলো, সোফিয়ার রসবোধ ভালো। মানে তার ডেটাবেইজ আর ফিল্টারিং ইঞ্জিন সার্চকৃত কনটেন্ট থেকে হিউমার পিক করতে পারে। আমি সোফিয়ার যত ইন্টারভিউ দেখেছি, প্রায় সবখানেই তার রসবোধের পরিচয় পেয়েছি। কিন্তু তাকে তো সে সুযোগ দিতে হবে, নাকি? ইন্ডিপেন্ডেট এর সাংবাদিকের প্রশ্নগুলো তো সোফিয়া ঠিক মতো বুঝতেই পারেনি, উত্তর দিবে কি করে?
ইউটিউবে দেখেছি, প্রায় প্রতিটি সাক্ষাৎকারে সোফিয়ার নির্মাতা ডেভিড হ্যানস্যানকেও সোফিয়ার সাথে রাখা হয়েছিলো। কিন্তু ইন্ডিপেন্ডেট টিভির এই সাক্ষাৎকারে তাকে অনুপস্থিত রাখা হয়েছে। যার ফলে, সে নিজে যে সোফিয়াকে সঠিক ইংরেজী উচ্চারণে অকাট মূর্খ সাংবাদিকের প্রশ্নগুলো “অনুবাদ” করে দিবে, তার উপায়ও ছিলো না।
 
আমাদের দেশের হোষ্টরা যে কি পরিমান আহাম্মকের মতো হোষ্টিং করে, তা এই ভিডিওটি দেখলে বুঝতে পারবেন। এটা মুটামুটি একটা কম্পাইলেশন ভিডিও, মানে কয়েকটা বলদামিপূর্ণ হোষ্টিং ক্লিপ এখানে একত্রে এই ভিডিওতে দেখানো হয়েছে।
২. ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের ২য় দিনে অস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী এনিমেটর নাফিস বিন জাফর যে দিন স্পিচ দিয়েছিলেন, সে ইভেন্টে প্রকাশ্যে অধ্যাপক মুনীর হাসান জানিয়েছিলেন, সরকারের কাছে যথেষ্ঠ পরিমান ফান্ডিং রয়েছে, ২৫ লাখ, এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখা টাকা এমনকি কোম্পানির ক্ষেত্রে ১০ কোটি টাকা পযন্ত সিড ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা করে দিতে পারে। মন্ত্রনালয় তো বটেই, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকেও ফান্ডিংয়ের ব্যাবস্থা করা হয়। (A2i প্রজেক্ট। এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন।) তবে এর ভেতর হয়তো কিছু ব্যুরোক্রেসি রয়েছে।
 
ভিডিওয়ের যে অংশে মুনীর সাহেব এই কথা বলেছেন, সে অংশটা এখান থেকে দেখা যাবেঃ 
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নাফিসের এই ভিডিও বক্তব্যটি দীর্ঘ ও বোরিং। শুধুমাত্র যারা ফিজিক্স, ম্যাথ, এনিমেশন ক্রিয়েশন এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামিং পছন্দ করেন, তারাই এটা উপভোগ করতে পারবেন, বাকীদের কাছে পুরোটা দেখে শেষ করা খুব কঠিন হবে। লেখাঃ প্রলয় হাসান।


Comments

মন্তব্য করুন

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্ট