ট্রেন্ডিং নিউজ

বৈদ্যুতিক গাড়ীর বহরে এবার কি তবে বাংলাদেশও নাম লেখালো?

কিভাবে IELTS-এ ভালো ফলাফল করবেন?

ইংরেজীতে “তাই না?” ব্যবহার করার কিছু সহজ টিপস!

খেয়ে আসুন আদিবাসীদের সুস্বাদু খাবার ”মুন্ডি”

তবে কি জাপানিজরা শীঘ্রই বিলুপ্তির পথে?

বৃহস্পতিবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮

এই ১০টি টিপস আপনার সিভিকে করে তুলবে আরও পেশাদার

আমাদের দেশে যারা সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরিয়েছেন তারা ভালো ফলাফল করলেও পেশাগত ক্ষেত্রে এটি একটি হতাশাজনক সত্য যে, তাদের অনেকেই এখনো নিজেদের সিভি টাও ঠিকঠাকমতো গুছিয়ে লিখতে পারেন না। ফলশ্রুতিতে, তাদের সিভি তে কোনমতে চোখ বুলিয়েই অনেক চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠান সেটাকে সোজা আস্তকুঁঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেন।

 

এই কারণে আজ আমরা ঢাকা টনিকের ক্যারিয়ার পাতায় জীবন বৃত্তান্ত বা কারিকুলাম ভিটা (সিভি) লেখার খুব সাধারন অথচ খুবই কার্যকর কয়েকটি টিপস নিয়ে আলোচনা করবো, যা একটি সিভিকে করবে আরও গ্রহণযোগ্য ও পেশাদার।

সিভিকে করে তুলুন আরো পেশাদার
১) দৈর্ঘ্যঃ

আপনি যদি ফ্রেশার হন, তবে সর্বোচ্চ ২ পাতা হতে হবে আপনার সিভি (কভার লেটার বাদে)। আর যদি অভিজ্ঞ হন, সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ পাতা হতে হবে। সিভি বেশী বড় হলে চাকরীদাতার ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটবে।

২) ফরম্যাটিংঃ

পুরো সিভিতে একই ঘরানার ফরম্যাটিং ব্যবহার করুন। এমএস ওয়ার্ডে আপনার সিভিকে ফরম্যাট করার হাজারটা অপশন পাবেন, তার মানে এই না যে সবগুলোকে সিভিতে ব্যবহার করতে হবে। পুরো সিভিতে একই ফন্ট ব্যবহার করুন। আন্ডারলাইন যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। দুইটির বেশী ফন্ট  এবং ফন্ট সাইজ ব্যবহার না করতে চেষ্টা করুন।

৩) কোম্পানির লোগো বসানঃ

Work Experiences অংশে অতীতে যে সকল কোম্পানিগুলোতে আপনি কাজ করেছেন, তাদের নামের পাশে তাদের লোগোও রাখুন। এটি আপনার সিভিকে আরো বেশী প্রফেশনাল লুক দেবে। সম্ভব হলে আইকন, সাইন এসব প্লেইন টেক্সটের বদলে ব্যবহার করুন। এতে করে আপনার সিভি হবে অন্যদের চাইতে আলাদা এবং আর্কষণীয়।
 

৪) উপস্থাপনঃ

ফ্রেশারদের সিভির প্রথম পাতাতেই থাকবে শিক্ষাগত যোগ্যতা। আর অভিজ্ঞদের সিভিতে থাকবে পূর্ব কাজের অভিজ্ঞতা। সিভি সব সময় পিডিএফ ফরম্যাটে জমা দিবেন। যদি প্রজ্ঞাপনে আলাদা করে নির্দেশ দেয়া না থাকে তবে কখনই সিভিকে এমএস ওয়ার্ড ফরম্যাটে উপস্থাপন করবেন না।

৪) জেলার নাম উহ্য রাখুনঃ

নিজ জেলার নাম এড়িয়ে যান। সিভিতে জেলার নাম উল্লেখের কোন দরকার নাই, বরং উল্লেখ করলে বিড়ম্বনায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের দেশের অনেকেই অনেক জেলার লোকজনকে ভালো চোখে দেখেন না, যদিও এটা একটা অপচর্চা। আপনি হয়তো কখনই জানবেন না যে, আপনার ”হোম ডিসস্ট্রিক্ট” এর নাম জেনে চাকরীদাতা কি খুশী হয়েছেন নাকি আপনার প্রতি বিরাগভাজন হয়েছেন। সুতরাং, এই ধরনের রিস্ক নিবেন না, জেলার নাম উল্লেখ করার দরকার নাই। এই তথ্য চাকরীর ক্ষেত্রে একান্তই যদি দরকার হয়, তবে আপনাকে তা ইন্টারভিউতে জানতে চাওয়া হবে, আপনি তখন সেটা বলবেন।
 

৫) তথ্য সুবিন্যস্ত রাখুনঃ

সময়ের ক্রমানুসারে তথ্য দিবেন, মানে সবচাইতে সাম্প্রতিকটা আগে এবং পুরনোটা পরে। তাছাড়া, অনেকেই এচিভমেন্টও অভিজ্ঞতা অংশে উল্লেখ করেন। যেমনঃ Successful Product Launch in 2017 কিংবা Best Employee Award 2017 – এইসব আপনার এচিভমেন্ট অংশে লিখবেন, অভিজ্ঞতা নয়।
 

৬) Skill:

এই অংশে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ওয়ার্ডপ্রেসসহ জীবনে যত টেকনিক্যাল জিনিসপাতি শিখেছেন/জানেন, সব লিখবেন। তবে এই অংশে একটা জিনিস কখনই উল্লেখ করতে ভুলবেন না, সেটা হলো আপনার টাইপিং স্পিড। এই তথ্যটা বাংলাদেশের বেশীরভাগ সিভিতেই দেখা যায় না।  বেশীরভাগ সময়েই এই তথ্যটা দরকার হয় নিয়োগকর্তার, কারণ মার্কেটিং, মানবসম্পদ, বিক্রয় ও বিপনন, হিসাব রক্ষণ কিংবা ফাইনান্সিয়াল এনালিষ্ট – যে কোন পদেই এই তথ্য দরকার।

সিভি রাইটিং টিপস

৭) Qualification:  

জীবনে যত ধরনের নন-একাডেমিক সার্টিফিকেট পেয়েছেন বা ট্রেইনিং করেছেন, এই অংশে তার সব লিখবেন। চাকুরীর সাথে যতই অপ্রয়োজনীয় মনে হোক না কেন, কোন ধরনের যোগ্যতা প্রমান করে এমন যে কোন সনদ বা প্রশিক্ষণই সিভিতে উল্লেখ করা যেতে পারে। 

৮) বাহুল্য তথ্য না দিয়ে দরকারী তথ্য দিনঃ

বাসার নম্বর, স্থায়ী ঠিকানা, বাবা-মায়ের নাম, ধর্ম, জাতীয়তা, লিংগ, আকাঙ্খিত বেতন – এইসব সিভিতে উল্লেখ করার কোন দরকার নেই। বিশ্বাস করুন, সিংহভাগ চাকুরীদাতার কাছেই এইসব বাহুল্য তথ্য। বরং আপনি কতটুকু সুলভ, ফুল টাইমার নাকি পার্ট টাইমার, কি ধরনের জব চান (মিড লেভেল, ইন্টারমিডিয়েট/এডভান্সড), চাকুরীর প্রয়োজনে অন্য কোন শহরে কাজ করতে আপত্তি আছে কিনা – এইসব তথ্যগুলো বেশী জরুরী। এগুলা অবশ্যই উল্লেখ করবেন।
 

৯) বিডিজবস ডট কম এর সিভির ধরন পরিহার করুনঃ

বিডিজবস ডট কমের সিভি ফরম্যাট ব্যবহার করবেন না। আমরা অনেক চাকুরীদাতাকে চিনি, তারা বিডি জবসের একঘেয়ে সিভি ফরম্যাট দেখতে দেখতে এতটাই বিরক্ত হয়ে গেছে যে এই ফরম্যাটের কোন সিভিই তারা আর মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারেন না। তাছাড়া, বিডিজবসের সিভিতে প্রচুর পরিমানে অদরকারী তথ্য থাকে, যা পাঠকের জন্য বিরক্তিকর। অনলাইনে ফ্রি তে অনেক স্বাতন্ত্র আর চমৎকার সব সিভি ফরম্যাট পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহার করবেন।
 

১০) চাকুরীর ধরন অনুসারে সিভি এডিট করুনঃ

চাকুরীদাতা কি চেয়েছেন, সিভি জমা দেবার আগে সে অনুযায়ী সিভিকে একটু এদিক ওদিক করে দিতে হবে, ভুলেও কখনো এক সিভি দিয়ে সব ধরনের চাকুরীর জন্য আবেদন করবেন না। ওহ আরেকটা জরুরী কথা বলতে ভুলে গেছি, ক্যারিয়ার বা পড়াশোনায় কোন ছেদ পড়লে সেটা সিভিতে উল্লেখ করে নিজের সততার পরিচয় দিতে ভুলবেন না। 
সিভিকে করে তুলুন আরো পেশাদার
এছাড়াও কিছু সাধারন নিয়ম, যেমনঃ কমপক্ষে দুটি রেফারেন্স দেয়া, শখ ও আগ্রহতে গড়পড়তা বিষয়গুলো পরিহার করা, বানান ও ব্যকরণের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা, এসব কথা যেহেতু সবাই জানেন, সেহেতু নতুন করে আর এসব নিয়ে কথা বাড়ালাম না।

Comments

মন্তব্য করুন

এই বিভাগের অন্যান্য পোস্ট