গুগল ম্যাপঃ প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

Mapআমাদের দেশের জনসাধারনের কাছে ‘গুগল ম্যাপ’ সেবাটি খুব একটা পরিচিত বা গ্রহনযোগ্যতা না পেলেও দেশের বাইরে গুগল ম্যাপ যে কি পরিমান শক্তিশালী সেটা যাদের অভিজ্ঞতা আছে, তারা ভালো করেই জানেন। রাস্তাঘাটের ভেক্টর ইমেজ থেকে শুরু করে থ্রি ডি স্ট্রিট ভিউ পর্যন্ত সেখানে গুগল ম্যাপে পাওয়া যায়। এবং এই কাজটা করতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার গুগলকে সব রকম সহায়তাও দিয়েছে। কোন কোন দেশ তো রীতিমতো টাকা পয়সা খরচ করে নিজেদের অঞ্চলের ম্যাপিং করিয়েছে। একটা বিষয় বলে রাখা ভালো, ম্যাপিং মূলত চিহ্নিত করা। মানে গুগল তাদের স্যাটেলাইট থেকে ম্যাপের ছবি আগে থেকেই দিয়ে রেখেছে, সেখানে শুধু আপনি নিজ নিজ এলাকার স্থাপনাগুলোকে চিহ্নিত করে দেবেন। ব্যস, কাজ শেষ। পরবর্তীতে অসংখ্য ম্যাপ ব্যবহারকারী আপনার চিহ্নিত করা জাগাগুলোর মাধ্যমে প্রভূত উপকার পাবেন।

এর প্রয়োজনীয়তা কি? একটা দেশে, বিশেষ করে আমাদের মতো ৩য় বিশ্বের একটা দেশে গুগল ম্যাপের প্রয়োজনীয়তা এক কথায় বলা শেষ করা সম্ভব না। আমাদের দেশে কোন জিপিএস সিম্টেম নাই। সেটা করার জন্য নির্দিষ্ট একটা স্যাটেলাইট ম্যাপিং থাকতে হয়। গুগল ম্যাপ সেটার দারুন একটা বিকল্প হবে। গুগল ম্যাপ না থাকলে সরকারকে বিপুল পরিমান পয়সা খরচ করে দেশের রাস্তা ঘাটের ম্যাপিং করতে হতো। গুগল সেটা ফ্রিতেই করে দিচ্ছে। এরপর ধরুন, আপনি একটা অপিরিচত জাগায় গেলেন, ঢাকার ভেতরই আপনার অনেক অপিরিচত জায়গা আছে, সেখানে গিয়ে আপনি একটা বিপদে পড়লেন, আপনার এতৎক্ষনাৎ একটা থানা বা হাসপাতাল, এমনকি একটা সাইবার ক্যাফে বা খাবারের দোকান দরকার । আপনি কি করবেন? জনে জনে রাস্তায় জিজ্ঞেস করবেন নাকি ফোন করে বন্ধু বান্ধবের সাহায্য চাইবেন? কিন্তু হাতে যদি থাকে একটা স্মার্ট ফোন? সেটা থাকলেও লাভ নাই যদি না গুগল ম্যাপ থাকে। আসলে গুগল ম্যাপ থাকলেও লাভ নাই যদি না আপনার প্রয়োজনীয় জাগাগুলো ম্যাপের ভেতর ম্যাপিং করা না থাকে।

map1

এই কাজগুলো আমাদেরই করতে হবে। ম্যাপ বানিয়ে গুগল সেটা আমাদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে, এখন যদি আমরা আশা করি, আমার বাড়ীর পাশের বাজারটিও গুগলকে তাদের ম্যাপে এ্যাড করে দিতে হবে, তাহলে কি ভাবে হবে? মোটকথা, গুগল ম্যাপে লোকাল এডিটিং করে ম্যাপিং করার মানে হচ্ছে, পৃথিবীর সবচেয়ে সুলভ তথ্য ভান্ডারে আমার দেশটাকে চিরদিনের জন্য, আরো পুনখানুপুঙ্খভাবে যুক্ত করে দেয়া।

বাংলাদেশের কিছু প্রযুক্তি ও দেশপ্রেমিক তরুন স্বতোঃপ্রণোদিত হয়ে গুগল ম্যাপিং এ অংশ নিয়ে দেশের ৪৮৫ টা উপজেলার জেল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চিহ্নিত করেছেন, বাংলাদেশের সবগুলো রেলওয়ে ষ্টেশন চিহ্নিত করেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার সীমানা চিহ্নিত করেছেন, এমনকি বাংলাদেশের ৪৮৫ টা উপজেলার সীমানাও গুগল ম্যাপে চিহ্নিত করে ফেলেছেন। রংপুরের প্রায় ৭০/৮০ ভাগ জায়গা গুগলে ম্যাপিং করা শেষ। বাংলাদেশে মনেহয় রংপুরই একমাত্র জেলা যেটার সবচেয়ে বেশী ম্যাপিং গুগলে করা হয়েছে।

আরো মজার ব্যাপার হলো, কাজগুলো তারা করেছেন বাংলাতে। মানে বেশীরভাগ ম্যাপিং এর কাজ বাংলা শব্দে করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমানিত হবে, এই কাজগুলো আমরা নিজেরাই করেছি। অন্য কাউকে করে দিতে হয় নি। আমাদের দেশের ম্যাপ আমাদের নিজস্ব ভাষাতেই বিশেষায়িত।

 

DSC_1400
গতকাল এমন একটি অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে খুবই আনন্দ হচ্ছে এবং নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। ভাগ্যবান মনে হবার কারন হলো, বাংলাদেশে গুগলের কোন অনুষ্ঠান এর আগে কখনো হয়নি। তার উপর প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক লোকের মধ্য থেকে বেছে বেছে মাত্র অর্ধ শতাধিক লোককে বাছাই করা হয়েছিলো। গুগল থেকেই এই সীমাবদ্ধতা নির্ধারিত ছিলো। পুরো অনুষ্ঠানটিই ছিলো হাইলি টেকনিক্যাল। তবে শেষের দিকে বাংলা লায়নের ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক না থাকায় বলতে গেলে কেউই ম্যাপিং এর কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি।

অনুষ্ঠানের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী, অতিথিদের অভ্যর্থনার ব্যাপারে যার আন্তরিকতা রীতিমতো মুগ্ধ করার মতো, হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সেই মাজেদুল ইসলাম ভাইকে। (উনার কারনেই এই অভাজন দাওয়াত পত্র পেয়েছে।) এছাড়াও তানজিল, আরমান হোসেন ও অভিজিৎ রায় কাব্যসহ বাংলাদেশের সকল পাওয়ার ম্যাপারদেরকে জানাচ্ছি অসংখ্য ধন্যবাদ। দেশের ম্যাপিং এর ইতিহাসে তারা সব সময়ই থাকবেন অগ্র পথিক। এদেশের ভবিষৎত প্রজন্ম এক সময় গুগল ম্যাপকে প্রতিনিয়ত ব্যবহার করবে, তাদের সবাই এই মানুষগুলোর কাছে চিরকৃতজ্ঞ হয়ে থাকবে।

DSC_1305

অনুষ্ঠান শেষে সবার হাতে তুলে দেওয়া হয় গুগল থেকে সরবরাহকৃত একটি করে সুদৃশ্য সনদপত্র।

যুক্তাক্ষরজনিত কিছু সমস্যা, ইউনিয়নের জন্য যথাযথ ক্যাটাগরি ভুক্তি না থাকা, বাংলাদেশের নদী পথগুলোর আউটলাইন স্পষ্টতর না করা, হাই রেজুলেশন ছবি সাপোর্ট না করা, রোড স্ট্রেইটেনিং এর জন্য বিশেষায়িত টুল না থাকা – ইত্যাদি বাংলাদেশের ম্যাপিং এর বড় কতগুলো অন্তরায়। গুগল এ সমস্যাগুলো খুব শীঘ্রই সেরে ফেলবে বলে আমাদের ম্যাপারদের জানিয়েছে।

ম্যাপ আপের পুরো প্রক্রিয়াটিই খুব সহজ এবং উপভোগ্য। সবচেয়ে বড় কথা হলো, যে কেউ চাইলেই এই ম্যাপআপের সাথে যুক্ত হয়ে আমাদের দেশের এই উচ্চপ্রযুক্তির ম্যাপটাকে আরো সমৃদ্ধশালী করতে পারেন। এবং এই কাজে যত বেশী ভলান্টিয়ার যুক্ত হবেন, ম্যাপিং কাজ ততবেশী দ্রুত ও উন্নত হবে।

DSC_1414

আমার সার্টিফিকেট

 

Comments

comments

error: Please dont copy DhakaTonic! কপি করে লুজার রা!