ব্রেকথ্রু জুনিয়র চ্যালেঞ্জ ২০১৭!

ভিডিও তো কেবল ফান বা মজা করার জন্য না। পিচ্চিরাও পারে এখন, করেও। একটা ভালো খবর দেই

বছরের শুরুতে গুগল সায়েন্স ফেয়ার প্রোজেক্ট মেন্টরিং করি একদল পাগল;এবার তাহলে ফেসবুক জুনিয়র চ্যালেঞ্জ।

প্রিসিলা চ্যান আর মার্ক জাকারবার্গের চ্যান-জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ এর পক্ষ থেকে গত বছর একটা প্রাইজ দেয়া শুরু হয়েছে। প্রাইজের নাম “ব্রেক থ্রু জুনিয়র চ্যালেঞ্জ”।
.
কীসের প্রতিযোগিতা?
বিজ্ঞানভিত্তিক ভিডিও বানানোর।
.
বয়সসীমা?
১৩-১৮ বছর।
.
সময়সীমা?
এই বছরের প্রতিযোগিতায় ভিডিও সাবমিট করার ডেডলাইন ১ অক্টোবর।
.
প্রাইজ?
বিজয়ী পাবে ২,৫০,০০০ ডলারের স্কলারশিপ। তার শিক্ষকের জন্যে ৫০,০০০ ডলার। আর তার স্কুলের ল্যাবের জন্য ১,০০,০০০ ডলার।


.
বাংলাদেশ থেকে কেন কেউ এই প্রাইজ পাবে না?
অবশ্যই পেতে পারে।
ইংরেজিতে বানাতে হবে যদিও। আর অতি অবশ্যই তার নিজের হতে হবে।
.
কী বলেন, আশপাশে এইরকম পোলাপাইন আছে কিনা দেখেন, থাকলে তাগোরে জানায়া দেন। আর আরো ডিটেইল জানতে ঢুঁ মারতে পারেন তাদের সাইটে
.
আর দেখতে পারেন এই ভিডিওটা

কেউ উপযুক্ত শিক্ষক না পেলে নক দিতে পারেন সজিব বর্মনকে।

আমাদের এই তথ্যগুলো বাচ্চাদের কাছে পৌছায় না খুব একটা। ফ্রি ফেসবুকেই আটকে। বল এবার আপনার কোর্টে… এই সংবাদ ছড়িয়ে দিন যতটা পারেন।

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

ধর একটা জটিল বিষয় অথবা সমস্যা তুমি খুব সহজেই বুঝে গেছ। এখন ভাবছ, এমন একটা মজার বিষয় তোমার বন্ধুরা বুঝতে পারছে না, এ কেমন কথা? তুমি তোমার বন্ধুদের নিয়ে বসে আড্ডার ছলে হাসিঠাট্টা করে বিষয়টা তাদের বুঝিয়ে দিলা। তারা বুঝতে পেরে তোমাকে বলল, দোস্ত এইটা যে এত মজার বিষয় সেটা তো স্যারের পড়ানো থেকে বুঝি নাই! স্যারেরা যদি এভাবে বুঝাইতো!

এরকম অনেক জটিল এবং বিরক্তিকর বিষয় আছে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যা শুধু ছাত্র না, শিক্ষকরাও বুঝতে হিমশিম খায়। এমন কোন জটিল বিষয় সহজেই মজা করে সবাইকে বুঝিয়ে দিতে পারলে বিজ্ঞানের প্রতি সবার ঝোঁক বাড়বে, বিজ্ঞান যে আসলেই খুবই মজার সেটা সবাই বুঝতে পারবে। এরকম চিন্তা থেকে গত দুই বছরের মত এই বছরেও ব্রেকথ্রু প্রাইজ সংগঠনের উদ্যোগে খান একাডেমী, ন্যাশনাল জিওগ্রাফী চ্যানেল এবং কোল্ড স্প্রিং হার্বার ল্যাবরেটরি সম্মিলিতভাবে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে ১৩ বছর থেকে ১৮ বছরের ছেলেমেয়েদের দিকে। চ্যালেঞ্জটা এই, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান কিংবা গণিতের যেকোন জটিল কোন বিষয় সহজে, চিন্তাশীল, আকর্ষণীয় এবং উৎসাহক উপায়ে বুঝিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করতে হবে। বিজয়ীরা সম্মান এবং পরিচিতির পাশাপাশি পাবে শিক্ষাবৃত্তি। এবং শুধু বিজয়ী নয়, বিজয়ীর মেন্টর এবং স্কুলও পাবে বৃত্তি।

এতক্ষণে সম্ভবত সবাই লাফ দিয়ে বলে ফেলেছ, চ্যালেঞ্জ এক্সেপ্টেড! তোমরা যারা ১৩ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে তারা সবাই এই চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করতে পারবে। ভিডিও ভাষা কিন্তু হতে হবে ইংরেজি এবং এই বছর ভিডিওর দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তিন মিনিট। তোমরা দলগতভাবে এই প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তোমার ভিডিওর সকল কন্টেন্ট তোমার তৈরি এবং মৌলিক হতে হবে। এই প্রতিযোগীতায় রেজিস্ট্রেশন এবং সাবমিট করার জন্য কোন ফী দিতে হবে না। একজন শুধুমাত্র একটি ভিডিও সাবমিট করতে পারবে। রেজিস্ট্রেশন এবং সাবমিশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১লা সেপ্টেম্বর এবং শেষ হবে ১লা অক্টোবর। তাই ঝটপট কাজে লেগে যাও।

এন্ট্রিগুলোর বাছাই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ শুরু হবে সকল অংশগ্রহণকারীদের থেকেই। তোমার ভিডিও যদি সফলভাবে সাবমিট হয়ে যায় তাহলে সেখান থেকে সেরা ৭৫ ভিডিও বাছাই করতে সাহায্য করবে তোমরাই। তোমাকে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের কমপক্ষে ৫টি ভিডিও দেখানো হবে এবং রিভিউ দিতে বলা হবে। এছাড়া ৫টির বেশি ভিডিওর রিভিউও দিতে হতে পারে তোমার। এই রিভিউ করার কাজগুলা খুবই নিষ্ঠা এবং সততার সাথে পালন করতে হবে। এই কাজে কোন অবহেলা করলে তোমার নিজের এন্ট্রি বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং তুমি ডিস্কোয়ালিফাইড হয়ে যেতে পার। তাই এই কাজে কোনরূপ অবহেলা করা চলবে না। এই প্রক্রিয়া চলবে ২ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত।

সেরা রিভিউ পাওয়া ভিডিওগুলো আরেকটি প্রশাসনিক রিভিউ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যাবে যেখানে ভিডিওগুলো বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরীক্ষিত হবে এবং পরবর্তি ধাপের জন্য চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হবে। পরবর্তি ধাপে একটি ইভালুয়েশন প্যানেল ভিডিওগুলো একই পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করবে। সেখান থেকে ৩০টি ভিডিও বাছাই করা হবে এবং আবার সেই প্রশাসনিক রিভিও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। এই সেরা ৩০টি ভিডিওকে ব্রেকথ্রু প্রাইজ সংগঠনের ফেসবুক পেইজে পাবলিশ করা হবে একটি পপুলার ভোট প্রক্রিয়ার জন্য। প্রতিটি ভিডিও ১১ দিনের জন্য সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এদের মধ্যে থাকবে ৮টি অঞ্চলের প্রতি অঞ্চলের অঞ্চলভিত্তিক সেরা ২টি করে মোট ১৬ ভিডিও। এই ধাপে তোমার  ভিডিওতে জনসাধারণের লাইক, শেয়ার এবং পজিটিভ প্রতিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে অঞ্চলভিত্তিক ৮জন চ্যাম্পিয়ন সহ মোট ১৫টি ভিডিও বাছাই করা হবে। এই ১৫টি ভিডিও থেকে সেরা পাঁচ বাছাই করবে একটি সিলেকশন কমিটি এবং সেরা পাঁচ থেকে চ্যাম্পিয়নকে বাছাই করবেন কম্পিটিশন স্পন্সরের চেয়ারম্যান।

বাছাই প্রক্রিয়া দেখে হয়ত বুঝে গেছ তোমার ভিডিও কেমন হওয়া উচিৎ। এইটাই চ্যালেঞ্জ, জটিল একটা বৈজ্ঞানিক ধারণা যা ব্যাখ্যা করতে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখলেও বুঝানো মুশকিল হয়ে যায় সেই ধারণাটা তুমি তিন মিনিটের মধ্যে বুঝিয়ে দিবে। কিন্তু শুধু বুঝালেই হবে না। আমরা প্রায়ই বলি আমাদের শিক্ষকেরা কত বোরিং, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কত একঘেয়ে! এখান তুমি হবে শিক্ষক এবং তুমি যেমন মজাদার শিক্ষক চাও তেমনি মজা করে বুঝাবে তোমার শর্ট ফিল্মে। খেয়াল রাখবে, ভিডিও যেহেতু ভিজ্যুয়াল মাধ্যম, সম্পূর্ণ ভিডিওতে যদি তুমি দাঁড়িয়ে থাক আর ক্যামেরার সামনে কথা বল তাহলে ব্যাপারটা বোরিং হবার সম্ভাবনাই বেশি। তাই তোমার শর্ট ফিল্ম/ভিডিও যেমনি হোক, এনিমেশন, ডকুমেন্টারি অথবা নাটকীয় কোন গল্প, তোমার কাজে সিমুলেশন, ডায়াগ্রাম, কিছু ব্যবহারিক ব্যাখ্যা দিতে পারলে খুবই ভাল হয়। তোমার শর্ট ফিল্ম/ভিডিও বিচার করা হবে তোমার বাছাইকৃত বিষয়ের জটিলতা, তোমার সৃজনশীলতা, তোমার বুঝানোর ক্ষমতা এবং কত মজা করে, কত সহজে বুঝাতে পার তার উপর। যেহেতু এই বিচারকদের একটা অংশ প্রতিযোগীরা এবং সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারী, এরা যত ভাল বুঝতে পারবে তুমি যা বুঝাতে চাচ্ছ তত ভাল রিভিউ পাবে তোমার শর্ট ফিল্ম/ভিডিও।

২০১৫ সালে প্রায় ২০০০ এন্ট্রি আসে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং ২০১৬ সালে ১০০টি দেশ থেকে প্রায় ৬০০০ শর্ট ফিল্ম/ভিডিও সাবমিট হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন জটিল বৈজ্ঞানিক সমস্যা এবং ধারণার মজার মজার ব্যাখ্যা দেয় ছাত্রছাত্রীরা। ২০১৫ সালের বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের রায়ান চেস্টার আইনস্টাইনের বিখ্যাত কিন্তু জটিল আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেছিল। ২০১৬ সালে বিজয়ী হয় দুইজন, পেরুর আন্তোনেলা মাসিনি এবং সিঙ্গাপুরের ডিয়েনা সি। আন্তোনেলা মাসিনি খুবই দুর্বোধ্য একটি বিষয় কোয়ান্টোম এন্ট্যাংগেলমেন্টের ব্যাখ্যা দেয় খেলার ছলে। ডিয়েনা সি হাসি ঠাট্টায় ব্যাকটেরিয়া কিভাবে এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে এবং কিভাবে তা প্রতিরোধ করা যায় সেই ব্যাখ্যা দেয় তার শর্ট ফিল্মে।

এই বছরের বিজয়ী হতে পার তুমি। আর পুরষ্কার? বিজয়ী ছাত্র বা ছাত্রী পাবে ২,৫০,০০০ মার্কিন ডলারের শিক্ষাবৃত্তি। শুধু তাই না, তোমার স্কুলের জন্য তুমি জিতে নিতে পার ১,০০,০০০ মার্কিন ডলার অনুদান নতুন ল্যাবরেটরির জন্য এবং তোমার শিক্ষকের জন্য জিতে নিতে পার ৫০,০০০ মার্কিন ডলার যে তোমাকে অনুপ্রাণিত করেছে তোমার পড়াশোনায়।

ভিজিট করে তুমি সকল বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবে এবং কিভাবে রেজিস্ট্রেশন, সাবমিট এবং রিভিউ দেওয়ার কাজগুলো করবে সেই ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নিবে। এবং অবশ্যই সকল নিয়ম পড়ে নিবে যাতে কোনরূপ সমস্যার না পরতে হয়। তাছাড়া ব্রেকথ্রু জুনিয়র চ্যালেঞ্জের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে।

তুমি গত বছরের ফাইনালিস্ট এবং বিজয়ীদের কাজ দেখতে পাবে। তাদের কাজ থেকে ধারণা নিতে পার, কিন্তু তোমার কাজে অবশ্যই তোমার মৌলিকতার ছাপ থাকতে হবে। তাহলে কাজে লেগে যাও।

Rafiqunnabi Zihad তোমাদের জন্য অনেক সময় নিয়ে পড়ে পড়ে বাংলায় লিখে দিয়েছে। একজন উদীয়মান ভালো ছেলে হিসেবে তোমাকে ধন্যবাদ জিহাদ।

লেখাটি সজীব বর্মনের ফেসবুক নোট থেকে নেয়া হয়েছে।

Comments

comments

error: Please dont copy DhakaTonic! কপি করে লুজার রা!