এ্যাপল ঘোষণা করলো আইফোন টেন! যাতে নেই কোন হোম বাটন!

অনেক জল্পনা-কল্পনা, গুজব এবং বহুল প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাত্র ৯ ঘন্টা আগে এ বছরের এ্যাপেল স্পেশাল ইভেন্টে ঘোষণা দেয়া হয়েছে আইফোনের তিনটি নতুন মডেলের। আইফোন ৮, ৮ প্লাস এবং আইফোন টেন! উল্লেখ্য, আইফোন X এর উচ্চারন টেন হবে (রোমান হরফে।) ”এক্স” হবে না। এ্যাপল এই বিষয়টি এখানে ক্লিয়ার করেছে। 
 

২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো আইফোন রিলিজের আগে ষ্টিভ জবস মনে প্রাণে চেয়েছিলেন, আইফোনে কোন ধরনের বাটন থাকবে না। পুরোটাই হবে টাচ প্রযুক্তির কারিশমা। কিন্তু সে সময়ের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তার এই ধারনাকে বাস্তব রূপ দেয়া যায়নি।

কিন্তু তার ঠিক ১ দশক পর, এ বছরের এ্যাপল ইভেন্টে এমন একটি আইফোন ঘোষনা করা হলো, যেটাতে ষ্টিভের স্বপ্নেরই বাস্তবায়ন হয়েছে। নতুন ঘোষনা করা আইফোন টেনে কোন হোম বাটন নেই। ফোনের সামনের অংশের পুরোটা জুড়েই রয়েছে OLED স্ত্রিন। এবং স্ক্রিনের সাইজও বড়! ৫.৮ ইঞ্চি! এটি সুপার রেটিনা ডিসপ্লে। একে বলা হচ্ছে new ultra-high-end addition to the product line. এর দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার ইউএস ডলার।

 
যেহেতু এতে কোন হোম বাটন নেই, সেহেতু হোম বাটনের কাজটি করবে স্বয়ং স্ক্রিন। মানে স্ক্রিনে টাচ করেই ডিসপ্লে চালু করা যাবে, এবং আঙ্গুলের স্পর্শেই হোম স্ক্রিনে ফেরত আসা যাবে। আর টাচ আইডির বদলে ব্যবহার করা হয়ে মুখাবয়ব সনাক্তকরণ প্রযুক্তি। সিরির জন্য থাকছে একটি নির্দিস্ট সাইড বাটন।
 
এর প্রসেসরে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বাধুনিক A11 প্রসেসর যাতে কিনা সন্নিবেশিত আছে শক্তিশালী নিউরাল ইঞ্জিন। (ফেসিয়াল রিকগনিজেশনের জন্য)।
 
আইফোনে টেনে (৬৪ জিবি) সরবরাহ করা হবে আগামী ৩রা নভেম্বর। আইফোন টেনে এর ফিচারসমূহঃ
 
১) ১২ মেগা পিক্সেল ক্যামেরা। কিন্তু দ্রুততর টেলিফটো লেন্স। এবং শক্তিশালী অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন।
২) আরো শক্তিশালী ক্যামেরা ফ্ল্যাশ।
৩) ফ্রন্টে দুইটা ক্যামেরা, চমৎকার সেলফির জন্য।
৪) আইফোন ৭ এর চাইতে বাড়তি ২ ঘন্টা ব্যাটার লাইফ।
 
স্টিভ জবস থিয়েটার

আমেরিকার সিলিকন ভ্যালিতে এ্যাপেলের গড়া তাদের নতুন হেড অফিস বিশালাকার এ্যাপল পার্কের ভেতর অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে বানানো হয়েছে স্টিভ জবস থিয়েটার, এবং এই থিয়েটারের সর্বপ্রথম ইভেন্ট ছিলো গতকালকের এ্যাপল ইভেন্ট।

থিয়েটারের ভেতরে
 

আইফোন ৮ এবং ৮ প্লাস হবে ২২ সেপ্টেম্বর। নতুন মডেলের আইফোনগুলোর প্রধান প্রধান ফিচারগুলো হলোঃ

 ১) মুখাবয়ব দিয়ে ফোন আনলক করা। (এটি অন্ধকারেও কাজ করবে)

২) এনিমেটেড ইমোজি।

৩) দীর্ঘতর ব্যাটারি লাইফ।

৪) তারবিহীন ফোন রিচার্জিং। (শুধুমাত্র ৮ এবং ৮+)

আইফোন টেনের পেছনের পুরোটা স্বচ্ছা কাচঁ দিয়ে আবৃত

৫) উন্নততর ক্যামেরা।

৬) জোরালো স্পিকার।

৭) আরো শক্তিশালী প্রসেসর।

৮) আরো শক্তিশালী জিপিইউ। (প্রথমবারের মতো এ্যাপলের নিজেদের বানানো)

এছাড়াও এ্যাপলের অন্যান্য নিয়মিত ১০ টি পন্যেরও নতুন ও আধুনিকায়িত মডেল রিলিজের ঘোষনাও এসেছে। সেগুলো হলোঃ

 
১) আইফোন ৮
২) এ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৩।
৩) নিউ এয়ারপড।

৪) পঞ্চম প্রজন্মের এ্যাপল টিভি। (ফোর কে রেজুলেশন)

৫) আইওএস ১১।
৬) ম্যাক ওএস ’হাই সিয়েরা’।
৭) ওয়াচ ওএস ৪।
৮) টিভিওএস ১১।
৯) হোম পড স্মার্ট স্পিকার।

১০) আই ম্যাক প্রো।

 
 

দেখা যাক নতুন মডেলের আইফোনগুলো গতবারের মতো হাইপ তৈরী করতে পারে কিনা কিংবা ক্রেতাদের চাহিদা কতটুকু মেটাতে পারে। সেই সাথে আমরা দেখার অপেক্ষায় রইলাম যে, আইফোন টেনকে টেক্কা দেবার জন্য স্যামসাং নতুন কি প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয় এ বছর।

 

ইভেন্টে এ্যাপলের ফোরকে টিভির ব্যাপারে বলা হচ্ছে
 

 যদি কেউ পুরো ইভেন্টটি দেখতে চায়, তবে সে এখান থেকে দেখতে পারবে

Comments

comments

error: Please dont copy DhakaTonic! কপি করে লুজার রা!